তবে এর অর্থ এই নয় যে জিমে ভর্তি হওয়া প্রত্যেক ব্যক্তিকেই বাধ্যতামূলকভাবে একগুচ্ছ হার্ট পরীক্ষা করাতে হবে।কার পরীক্ষা প্রয়োজন, তা নির্ভর করে বয়স, শারীরিক অবস্থা, পারিবারিক ইতিহাস এবং কোনো উপসর্গ আছে কি না—এসবের ওপর।
হার্টের বৈদ্যুতিক কার্যক্রম বোঝার জন্য ১২-লিড ইসিজি একটি পরিচিত ও গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। এতে হৃদ্যন্ত্রের স্পন্দন এবং বৈদ্যুতিক কার্যক্রমে অস্বাভাবিকতা আছে কি না, সে সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যায়।
বিশেষ করে যাদের আগে থেকেই কোনো উপসর্গ রয়েছে বা পরিবারের কারো অল্প বয়সে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হওয়ার ইতিহাস আছে, তাদের ক্ষেত্রে চিকিৎসক প্রয়োজন মনে করলে ইসিজি করার পরামর্শ দিতে পারেন।তবে সবার জন্য নিয়ম করে ইসিজি করানো প্রয়োজন—এমন কথা বলা ঠিক নয়। চিকিৎসকের মূল্যায়নের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
কেউ যদি দীর্ঘদিন ব্যায়াম না করার পর হঠাৎ জিমে গিয়ে ভারী ব্যায়াম শুরু করেন, তাহলে সতর্ক হওয়া দরকার। একইভাবে আগে থেকেই কোনো হৃদ্রোগ বা অন্য দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক সমস্যা থাকলেও চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কঠোর ব্যায়াম শুরু করা ঠিক নয়।
বিশেষ করে ব্যায়ামের সময় যদি—
তাহলে বিষয়টি অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।পরিবারে কারও অল্প বয়সে হঠাৎ হৃদ্রোগে মৃত্যু বা গুরুতর হৃদ্যন্ত্রের সমস্যার ইতিহাস থাকলেও বিষয়টি চিকিৎসককে জানানো জরুরি।
ইসিজিতে কোনো অস্বাভাবিকতা পাওয়া গেলে চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী আরও কিছু পরীক্ষা করতে পারেন। এর মধ্যে ইকোকার্ডিওগ্রাম অন্যতম।
ইকোর মাধ্যমে হৃদ্যন্ত্রের গঠন, পাম্প করার ক্ষমতা এবং ভালভের কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—ইসিজি স্বাভাবিক এলেই হার্টের সব ধরনের সমস্যা নেই, এমন নিশ্চয়তা পাওয়া যায় না। তাই শুধু একটি পরীক্ষার ফলের ওপর নির্ভর না করে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে ভালো।
অনেকে দ্রুত শরীর বানানোর আশায় জিমে গিয়ে শুরুতেই অনেক বেশি ওজন তোলেন বা দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করেন। আবার কেউ অল্প সময়ে ওজন কমাতে কঠোর ডায়েটের সঙ্গে অতিরিক্ত ব্যায়াম শুরু করেন।
এ ধরনের তাড়াহুড়ো না করে ধীরে ধীরে শরীরকে ব্যায়ামের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া উচিত।
প্রশিক্ষকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যায়ামের মাত্রা বাড়ানো, পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া এবং শরীরের সংকেত বুঝে চলা জরুরি।
পেশিবহুল শরীর দ্রুত পাওয়ার আশায় অনেকেই বিভিন্ন ধরনের স্টেরয়েড বা সাপ্লিমেন্ট ব্যবহার করেন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এসব গ্রহণ করা ঠিক নয়।
কোনো প্রোটিন পাউডার, সাপ্লিমেন্ট বা অন্য কোনো উপাদান নেওয়ার আগে সেটি সত্যিই প্রয়োজন কি না এবং শরীরের জন্য নিরাপদ কি না, তা চিকিৎসক বা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে জেনে নেওয়া ভালো।
শুধু জিমের পরিচিত কেউ বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কারও পরামর্শ দেখে এসব শুরু করা উচিত নয়।
জিমে গিয়ে হার্টের সমস্যা হতে পারে—এমন ভয় থেকে ব্যায়াম পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ারও প্রয়োজন নেই। নিয়মিত ও পরিমিত শারীরিক কর্মকাণ্ড সাধারণত হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।
মূল বিষয় হলো, নিজের শারীরিক সক্ষমতা বুঝে ব্যায়াম করা। দীর্ঘ বিরতির পর হঠাৎ কঠোর ব্যায়ামে না গিয়ে ধীরে শুরু করতে হবে। কোনো অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে ব্যায়াম বন্ধ করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
সবশেষে, জিমে যাওয়ার আগে নিজের হার্ট নিয়ে দুশ্চিন্তা থাকলে অযথা অনেক পরীক্ষা না করে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলাই সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত। প্রয়োজন হলে তিনি ইসিজি বা অন্য কোনো পরীক্ষা করতে বলতে পারেন।