নিবন্ধে বলা হয়েছে, ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে মানসিক স্বাস্থ্য ও অসুস্থতা বোঝাতে নানা ধরনের পরিভাষা ব্যবহার করা হয়েছে। তবে অতীতে ব্যবহৃত এসব শব্দকে বর্তমান সময়ের অর্থে ব্যাখ্যা করা সব সময় ঠিক নয়।
এই পরিবর্তনগুলো দেখায়, মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত কোনো সমস্যাকে বোঝার ভাষা সময়ের সঙ্গে বদলে যেতে পারে। তাই অতীতের কোনো ব্যক্তির আচরণ বা অবস্থাকে বর্তমান সময়ের পরিভাষা দিয়ে সরাসরি ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
নিবন্ধে ‘লুনাসি’ (Lunacy) ও ‘ইনস্যানিটি’ (Insanity) শব্দের ইতিহাসও তুলে ধরা হয়েছে। লুনাসি শব্দটির উৎপত্তি লাতিন ভাষা থেকে, যার অর্থ চাঁদের প্রভাবে অস্বাভাবিক আচরণ করা। একসময় ধারণা করা হতো, চাঁদের প্রভাব মানুষের মানসিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে পারে। উনিশ শতকে মানসিক রোগীদের আশ্রয়কেন্দ্র এবং ১৮৪৫ সালের ইংল্যান্ডের লুনাসি আইনের নামেও শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছিল। তবে বর্তমানে শব্দটি অবমাননাকর হিসেবে বিবেচিত হয়।
অন্যদিকে, ‘ইনস্যানিটি’ শব্দটি ষোড়শ শতকের শেষ দিক থেকে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এখনো আইনগত ক্ষেত্রে ‘ইনস্যানিটি ডিফেন্স’ বা মানসিক অসুস্থতাজনিত আইনি আত্মপক্ষ সমর্থনের প্রসঙ্গে শব্দটির ব্যবহার দেখা যায়। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিভাষা হিসেবে এটি এখন আর প্রচলিত নয়।
মানসিক অসুস্থতা বা ‘মেন্টাল ইলনেস’ শব্দবন্ধ নিয়েও রয়েছে ভিন্নমত। নিবন্ধটির লেখকের মতে, এই শব্দ ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি সমস্যা হলো, এটি মানুষের বিশেষ কিছু আচরণ বা বৈশিষ্ট্যকে সরাসরি রোগ বা মানসিক সমস্যার লক্ষণ হিসেবে বিবেচনা করার ধারণা তৈরি করতে পারে। অথচ মানসিক অসুস্থতা হিসেবে চিহ্নিত অনেক মানুষ নিজেদের অভিজ্ঞতা বা অবস্থাকে অসুস্থতা হিসেবে দেখতে চান না।
এখানেই ‘ম্যাডনেস’ শব্দটির নতুন তাৎপর্য সামনে আসে। চতুর্দশ শতকের শেষ দিক থেকেই ইংরেজি ভাষায় শব্দটি অস্বাভাবিক, বিভ্রান্তিকর বা অবিবেচনাপ্রসূত আচরণ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। অতীতে মানসিক রোগীদের আবাসস্থল বোঝাতেও ‘ম্যাডহাউস’ শব্দটি প্রচলিত ছিল।
তবে বর্তমানে কিছু মানুষ ও সংগঠন শব্দটিকে নতুনভাবে গ্রহণ করেছে। ‘ম্যাড পিপলস মুভমেন্ট’, ‘ম্যাড প্রাইড’ এবং ‘ম্যাড স্টাডিজ’—এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে শব্দটি নিয়ে প্রচলিত নেতিবাচক ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করা হচ্ছে। ১৯৭০-এর দশকের শুরু থেকেই এই শব্দকে নিজেদের পরিচয়ের অংশ হিসেবে গ্রহণের প্রবণতা দেখা যায়।
এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের কাছে ‘ম্যাড’ শব্দটি সব সময় মানসিক অসুস্থতার পরিচয় বহন করে না। বরং এটি এমন একটি পরিচয়, যা তাঁরা নিজেরাই গ্রহণ করতে পারেন। তাঁদের দৃষ্টিতে, চিকিৎসকের দেওয়া কোনো রোগের পরিচয়ের বাইরে নিজেদের অভিজ্ঞতা ও স্বাতন্ত্র্য প্রকাশেরও সুযোগ রয়েছে এই শব্দে।
নিবন্ধটির লেখকের মতে, মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে আলোচনায় কোন শব্দ ব্যবহার করা হচ্ছে, তা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, শব্দ শুধু কোনো অবস্থা বা অভিজ্ঞতাকে বর্ণনা করে না, বরং সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আত্মপরিচয়কেও প্রভাবিত করে। তাই অতীতের পরিভাষা বোঝার পাশাপাশি বর্তমান সময়ে মানুষ নিজের পরিচয় প্রকাশে কোন শব্দ বেছে নিচ্ছেন, সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।