শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা : শীতের দিনে মানুষ সাধারণত কম নড়াচড়া বা ব্যায়াম করে, ফলে শরীর গ্রীষ্মকালের তুলনায় কম সক্রিয় থাকে।অন্যান্য স্বাস্থ্যগত সমস্যা : শীতকালে সর্দি-ফ্লুর মতো সংক্রমণ এবং সিজনাল অ্যাফেক্টিভ ডিসঅর্ডারের (মনমরা ভাব বা বিষণ্ণতা) মতো সমস্যাগুলো বাড়ে, যা শরীরে প্রদাহ ও অতিরিক্ত চাপ তৈরি করে।
কারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছেন
যাদের আগে থেকেই হৃদরোগ বা উচ্চ রক্তচাপের মতো সমস্যা রয়েছে, তারা ঠাণ্ডায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।বিশেষ করে ৬৫ বছরের বেশি বয়সি পুরুষদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি বেশি দেখা যায়। অনেক সময় এমন ব্যক্তিদেরও হার্ট অ্যাটাক হতে পারে, যাঁদের উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিসের মতো সমস্যাগুলো আগে থেকেই ধরা পড়েনি।হৃৎপিণ্ডকে সুরক্ষিত রাখার কার্যকর উপায়
উপযুক্ত পোশাক পরিধান : বাইরে বের হওয়ার সময় পর্যাপ্ত গরম পোশাক, টুপি, গ্লাভস এবং মোটা কোট দিয়ে শরীর ভালোভাবে ঢেকে রাখুন।বাইরের পরিবর্তে ঘরে ব্যায়াম : ঠাণ্ডায় বাইরে না গিয়ে ঘরের ভেতরে আরামদায়ক ও নিয়ন্ত্রিত তাপমাত্রায় হালকা ব্যায়াম বা শারীরিক কার্যকলাপ চালিয়ে যান।
বরফ সরানোর সময় সতর্কতা : বরফ সরালে একটানা কাজ না করে মাঝে ঘন ঘন বিরতি নিন।শরীর ক্লান্ত লাগলে বা শ্বাসকষ্ট শুরু হলে তৎক্ষণাৎ কাজ থামিয়ে দিন।
হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ ও করণীয়
সিনেমায় যেভাবে বুকে তীব্র ব্যথা নিয়ে হার্ট অ্যাটাক হতে দেখা যায়, বাস্তব ক্ষেত্রে সব সময় তা ঘটে না। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে উপসর্গগুলো আরো সূক্ষ্ম হতে পারে—যেমন হালকা শ্বাসকষ্ট, বমি বমি ভাব, অতিরিক্ত ক্লান্তি বা মাথা ঘোরার মতো সমস্যা।
শীতকালে এ ধরনের কোনো লক্ষণ দেখা দিলে কিংবা ঠাণ্ডার মধ্যে পরিশ্রম করার পর বুকে অস্বস্তি বোধ হলে তা অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। এছাড়া জরুরি পরিস্থিতির জন্য সাধারণ সিপিআর পদ্ধতি শিখে রাখা জীবন বাঁচাতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।