রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ইন্তেকালের পর আবু বকর সিদ্দিক (রা.) মুসলিম জাহানের খলিফা মনোনীত হন, কিন্তু সংক্ষিপ্ত শাসনকালে তাঁকে মুরতাদদের ফিতনার মতো ভয়ানক সংকট মোকাবেলা করতে হয়েছিল। ফলে তিনি ভারতীয় উপমহাদেশের প্রতি মনোযোগ দিতে পারেননি। আবু বকর (রা.)-এর পর মুসলিম জাহানের খলিফা হন ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)।
ভারতে আগমানকারী সাহাবি
কাজি আতহার মোবারকপুরী (রহ.)-এর গবেষণা অনুসারে নিম্নোক্ত সাহাবিরা ভারতবর্ষে আগমন করেছিলেন। তাঁরা হলেন—১. হাকাম বিন আবুল আস (রা.), ২. হাকাম বিন আমর সালাবি গিফারি (রা.), ৩. খিররিত বিন রাশেদ নাজি সামি (রা.), ৪. রুবাই বিন জিয়াদ হারেসি (রা.), ৫. সিনান বিন সালামা হাজালি (রা.), ৬. সাহাল বিন আদি খাজরাজি আনসারি (রা.), ৭. সাহহার বিন আব্বাস আবদি (রা.), ৮. আসেম বিন আমর তামিমি (রা.), ৯. আবদুল্লাহ বিন আবদুল্লাহ বিন ইতবান আনসারি (রা.), ১০. আবদুল্লাহ বিন উমায়ের আশজায়ি (রা.), ১১. আবদুর রহমান বিন সামুরা কুরাশি (রা.), ১২. উবায়দুল্লাহ বিন মা’মার কুরাশি তাইমি (রা.), ১৩. উসমান বিন আবুল আস সাকাফি (রা.), ১৪. উমায়ের বিন উসমান বিন সাআদ (রা.), ১৫. মুজাশি বিন মাসউদ সালামি (রা.), ১৬. মুগিরা বিন আবুল আস সাকাফি (রা.), ১৭. মুনজির বিন জারুদ আবদি (রা.)। (খেলাফতে রাশেদা আওয়ার হিন্দুস্তান)
উল্লিখিত নামগুলোর বাইরে ঐতিহাসিক মুহাম্মদ ইসহাক ভাট্টি ভারতে আগমনকারী আরো যেসব সাহাবির নাম উল্লেখ করেছেন। তাঁরা হলেন—১৮. শিহাব বিন মুখারিক বিন শিহাব তামিমি (রা.), ১৯. নুসাইর বিন দাইসুম বিন সাউর ইজলি (রা.), ২০. হাকিম বিন জাবালাহ আসাদি (রা.), ২১. কুলাইব আবু ওয়াইল (রা.), ২২. মুহাল্লাব বিন আবু সাফরা আজদি আতেকি (রা.), ২৩. আবদুল্লাহ বিন সাউয়ার আবদি (রা.), ২৪. ইয়াসির বিন সাউয়ার আবদি (রা.), ২৫. আবদুল্লাহ সুওয়াইদ তামিমি (রা.)। অবশ্য এদের ভেতর কারো কারো ব্যাপারে এই বিতর্ক রয়েছে যে তারা সাহাবি নাকি তাবেঈ। (বিররে মে ইসলাম কে আউয়ালিন নুকুশ)
ভারতে আগমনকারী তাবেঈ
ঐতিহাসিক মুহাম্মদ ইসহাক ভাট্টির বর্ণনা অনুসারে ভারতে আগমনকারী ৪২ জন তাবেঈ হলেন—
১. সাগির ইবনে জাআর (রহ.), ২. হারিস বাইলামানি (রহ.), ৩. হাকিম ইবনে জাবালা (রহ.), ৪. হাসান ইবনে আবুল হাসান ইয়াসার বাসরি (রহ.), ৫. সাঈদ ইবনে হিশাম আনসারি (রহ.), ৬. সাঈদ ইবনে কিন্দিয়া কুশাইরি (রহ.), ৭. শিহাব ইবনে মুখারিক তামিমি (রহ.), ৮. সাইফি ইবনে ফুসাইল শাইবানি (রহ.), ৯. নুসাইর ইবনে ওয়াসিম ইজলি (রহ.), ১০. ইবনে উসাইদ ইবনে আখনাস (রহ.), ১১. আবু শাইবা জাওহারি (রহ.), ১২. হাতিম ইবনে কুবাইসা (রহ.), ১৩. রাশিদ ইবনে আমর জাদিদি (রহ.), ১৪. জায়েদা বিন উমাইর আত-তায়ি (রহ.), ১৫. জিয়াদ ইবনে হাওয়ারি আম্মি (রহ.), ১৬. আবু কায়েস জিয়াদ ইবনে রাবাহ কায়সি বাসরি (রহ.), ১৭. হাকাম ইবনে আওয়ানা কালবি (রহ.), ১৮. মুয়াবিয়া ইবনে কুররাহ মুজানি বাসরি (রহ.), ১৯. মাকহুল ইবনে আবদুল্লাহ সিন্দি (রহ.), ২০. আবদুর রহমান ইবনে আব্বাস (রহ.), ২১. আবদুর রহমান সিন্দি (রহ.),
২২. কুতুন ইবনে মুদরিক কিলাবি (রহ.), ২৩. কায়েস ইবনে সালাবা (রহ.), ২৪. কামস ইবনে হাসান বাসরি (রহ.), ২৫. ইয়াজিদ ইবনে আবি কাবশাহ সাকসাকি দিমাশকি (রহ.), ২৬. মুসা সাইলানি (রহ.), ২৭. মুসা ইবনে ইয়াকুব সাকাফি (রহ.), ২৮. আবদুর রহমান কিন্দি (রহ.), ২৯. আবদুর রহমান বাইলামানি (রহ.), ৩০. ওমর ইবনে উবাইদুল্লাহ কুরাশি তাইমি (রহ.), ৩১. শিমার ইবনে আতিয়্যাহ আসাদি (রহ.), ৩২. সাঈদ ইবনে আসলাম কিলাবি (রহ.), ৩৩. হুবাব ইবনে ফাজালাহ জুহলি (রহ.), ৩৪. আবদুর রহমান ইবনে আবদুল্লাহ কাউআশি (রহ.), ৩৫. হারিস ইবনে মুররাহ আবদি (রহ.), ৩৬. আইয়ুব ইবনে জায়িদ হিলালি (রহ.), ৩৭. হুরাই ইবনে হুরাই বাহেলি (রহ.), ৩৮. ইবাদ ইবনে জিয়াদ উমাবি (রহ.), ৩৯. ইয়াজিদ ইবনে মুফাররিগ হিময়ারি (রহ.), ৪০. রাবি ইবনে সুবাইহ সু’দা বসরি (রহ.), ৪১. মুজাআহ ইবনে সি’র তামিমি (রহ.), ৪২. আতিয়্যাহ ইবনে সাআদ আউফি (রহ.), ৪৩. আবু সালামা জুত্তি (রহ.), ৪৪. মুহাম্মদ ইবনে কাসিম সাকাফি (রহ.)। (বিররে মে ইসলাম কে আউয়ালিন নুকুশ)
যদিও ঐতিহাসিকভাবে উল্লিখিত ব্যক্তিদের কারো কারো ব্যাপারে সাহাবি ও তাবেঈ হওয়ার ব্যাপারে এবং তাঁরা ভারতবর্ষে আগমন করেছেন কি না তা নিয়ে বিতর্ক আছে। তবে এ বিষয়ে নিশ্চয়ই কোনো বিতর্ক নেই যে ভারতবর্ষে বহুসংখ্যক সাহাবি ও তাবেঈর আগমন ঘটেছিল। আল্লাহ তাঁদের সবাইকে উত্তম প্রতিদান দিন। আমিন।