কলকাতার ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে ভোটযুদ্ধে সামিল হয়েছে মিজ ব্যানার্জী। এই কেন্দ্রটি কার্যত তার ‘ঘরের মাঠ’। অন্যদিকে, নন্দীগ্রাম ছাড়াও ওই একই আসন থেকে প্রার্থী হিসাবে দাঁড়িয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি এক সময় মমতা ব্যানার্জীর ঘনিষ্ঠ ছিলেন পরে বিজেপি প্রার্থী হিসাবে ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে নন্দীগ্রাম থেকে মমতা ব্যানার্জীকে হারিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী।
এবারের ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন নানা দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। কিছু জায়গায় অশান্তি ও স্ট্রং রুমের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা থাকলেও, বড় একটি ইতিবাচক দিক হলো, এবার ভোট প্রক্রিয়ায় কোনো প্রাণহানির ঘটনা হয়নি। কেন্দ্রীয় বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে ভোটদানের হার ৯২ শতাংশের বেশি হয়েছে, যা এবার একটি বড় রেকর্ড।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিনরাজ্য থেকে ফিরে আসা শ্রমিকদের ভোট দেওয়াও ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। টানা ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে এবার বিরোধীরা প্রতিষ্ঠানবিরোধী আবহকে কাজে লাগিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শহরের শিক্ষিত মধ্যবিত্তের একটি অংশ এবার তৃণমূলের বিরুদ্ধে গিয়ে ভারতীয় জনতা পার্টির দিকে ঝুঁকতে পারে। অন্যদিকে, তৃণমূলের শক্তি হিসেবে রয়েছে তাদের শক্ত সংগঠন এবং বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্প। গ্রামীণ এলাকায় ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের জনপ্রিয়তা এবং সংখ্যালঘু ভোটব্যাংকের সমর্থন দলটির বড় ভরসা। এক্সিট পোল কিছুটা বিজেপির দিকে ইঙ্গিত দিলেও, তৃণমূল শিবির দাবি করছে, জনগণের আস্থা ও উন্নয়নের ভিত্তিতে তারা আবারও ক্ষমতা ধরে রাখবে।
এখন মূল প্রশ্ন—মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি হ্যাটট্রিক ধরে রাখতে পারবেন, নাকি বাংলায় আসবে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ?