ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠান ‘কে গার্মেন্টস লিমিটেড’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) বিজয় শেখর দাশ বিজিএমইএকে লেখা এক চিঠিতে উল্লেখ করেন, আলজেরিয়ার মাজারিন গ্রুপ নামের ওই বায়িং হাউস নকল পেমেন্ট কাগজপত্র দেখিয়ে বন্দরে থাকা পণ্য ছাড়ানোর চেষ্টা করছে এবং দুবাইভিত্তিক ক্রেতার কাছ থেকে পণ্যের পূর্ণ মূল্য এরই মধ্যে গ্রহণ করেও কে গার্মেন্টসকে এক টাকাও পরিশোধ করেনি। তিনি জানান, রপ্তানির পেমেন্টের সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ায় ব্যাংক তাঁর প্রতিষ্ঠানের সব ধরনের আমদানি কার্যক্রম স্থগিত করেছে। এর ফলে তিনি নতুন করে কোনো ব্যাক টু ব্যাক এলসি খুলতে পারছেন না। বিজয় শেখর দাশের আশঙ্কা, বিদ্যমান পরিস্থিতি না বদলালে আগামী মাস থেকে কারখানা চালু রাখা অসম্ভব হয়ে পড়বে, যা কয়েক হাজার শ্রমিকের জীবনে অনিশ্চয়তা নিয়ে আসবে।গত ৩০ সেপ্টেম্বর বিজিএমইএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সেলিম রহমান স্বাক্ষরিত এই চিঠিতে টাকা ফেরত না আসার পেছনে সুনির্দিষ্ট ছয়টি কারণ উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে চট্টগ্রামের ‘মেলো ফ্যাশন’ নামে অপর একটি গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠানের প্রায় পাঁচ কোটি টাকার পণ্য একই কায়দায় ব্যাংক ডকুমেন্ট ছাড়া খালাস করে নেওয়া হয়। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বারের সহসভাপতি এবং গার্মেন্টস ব্যবসায়ী এ এম মাহবুব চৌধুরী নিজেও ২০০২ সালে চার লাখ ডলারের পণ্যে প্রতারিত হয়েছিলেন। তিনি জানান, ১৯৭৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৩০ হাজার রপ্তানি চালানের বিপরীতে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা দেশে আসেনি। গার্মেন্টস ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, বাংলাদেশ ব্যাংক এই টাকা ফেরত আনতে সরাসরি ভূমিকা রাখলে এবং বিদেশে দূতাবাসকে ব্যবহার করে অসাধু বায়ারদের বিরুদ্ধে মামলা করলে প্রতারকরা নিরুৎসাহ হবে।ব্যবসায়ীদের মতে, বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইনের ১৮(এ) ধারা রহস্যজনকভাবে বিলুপ্ত করে দেওয়ায় বিদেশিরা নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে গেছে।