শিয়াল সম্পর্কে হাদিসের নির্দেশনা
সহিহ হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রত্যেক নখ-বিশিষ্ট হিংস্র জন্তুর গোশত খেতে নিষেধ করেছেন।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৯৩৩)
শিয়াল শিকারি প্রাণী।
আরেক হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের জন্য যা হারাম করেছেন, তাতে তোমাদের আরোগ্য রাখেননি।’ (ইবনে হিব্বান)
অতএব, শুধু লোকমুখে প্রচলিত বিশ্বাস বা কুসংস্কারের ভিত্তিতে শিয়াল খাওয়া বা তার মাধ্যমে চিকিৎসা নেওয়া ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য নয়। তবে যদি এমন জীবন-মৃত্যুর সংকট তৈরি হয়, যেখানে একজন বিশ্বস্ত ও দক্ষ মুসলিম চিকিৎসক নিশ্চিতভাবে বলেন যে, হারাম বস্তু ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প চিকিৎসা নেই এবং তা ব্যবহার না করলে প্রাণনাশের আশঙ্কা রয়েছে, তাহলে ‘প্রয়োজনের কারণে নিষিদ্ধ বস্তু সীমিত পরিমাণে আহার করা’ শর্তসাপেক্ষে জায়েজ হতে পারে। তবে এটি অত্যন্ত ব্যতিক্রমী অবস্থা; সাধারণ নিয়ম নয়। কোনো খাদ্য বা চিকিৎসা সম্পর্কে সামাজিক মাধ্যমের গুজব বা প্রচারণার পরিবর্তে কোরআন, সুন্নাহ এবং নির্ভরযোগ্য আলেমদের ফতোয়ার ওপর নির্ভর করা উচিত।
ইতিপূর্বে যারা শিয়ালের মাংস খেয়েছে তারা কবিরা গুনাহ করেছে। এই গর্হিত কাজের জন্য আল্লাহ তায়ালার দরবারে কায়মনোবাক্যে তাওবা করা তাদের জন্য আবশ্যক। তা ছাড়া বাংলাদেশ বন্য প্রাণী সংরক্ষণ আইনে শিয়াল শিকার করা, বিক্রি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।
সারকথা হলো, শিয়ালের গোশত খাওয়া হারাম। কারণ এটি দাঁত দিয়ে শিকার করা হিংস্র প্রাণীর অন্তর্ভুক্ত, আর রাসুলুল্লাহ (সা.) এ ধরনের প্রাণীর গোশত খেতে স্পষ্টভাবে নিষেধ করেছেন। অসুস্থতার অজুহাতে বা লোকমুখে প্রচলিত ধারণার ভিত্তিতে শিয়াল খাওয়াও বৈধ নয়। শুধু জীবনরক্ষার মতো চরম ও অনিবার্য পরিস্থিতিতে, শরিয়তের নির্ধারিত কঠোর শর্ত পূরণ হলে ব্যতিক্রমী বিধান প্রযোজ্য হতে পারে। একজন মুসলমানের উচিত ভাইরাল তথ্য বা লোকবিশ্বাস নয়; বরং কোরআন, সহিহ সুন্নাহ এবং নির্ভরযোগ্য ফিকহের আলোকে নিজের খাদ্য ও জীবন পরিচালনা করা। কেননা, হালাল খাদ্য শুধু দেহকে নয়, ঈমান, ইবাদত ও দোয়া কবুল হওয়ার ক্ষেত্রেও গভীর প্রভাব ফেলে। আল্লাহ তাআলা আমাদের হালাল খাদ্য গ্রহণ করার তাওফিক দান করুক। আমিন।