ভারতের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) নিয়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে তীব্র আক্রমণ করেছেন দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তার অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের বিরোধিতা করে কংগ্রেস মূলত ‘অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের রক্ষা করার চেষ্টা’ করছে। ভোটার তালিকায় এমন তিন কোটি মানুষের অস্তিত্ব নেই বলেও দাবি করেছেন তিনি।
সোমবার (২ নভেম্বর) ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির রামলীলা ময়দানে রাহুল গান্ধীর বড় সমাবেশের এক দিন পর এ মন্তব্য করেন অমিত শাহ। তিনি বলেন, ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটি ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার যে অভিযোগ বিরোধীরা তুলেছে, তার প্রকৃত চিত্র ভিন্ন।
অমিত শাহের দাবি, ভোটার তালিকায় থাকা ৬ কোটি ২৫ লাখ মানুষ নতুন ঠিকানায় স্থানান্তরিত হয়েছেন, প্রায় ৩ কোটি ভোটার মারা গেছেন এবং প্রায় ১ কোটি নাম একাধিকবার তালিকাভুক্ত ছিল। বাকি ৩ কোটি ভোটারের কোনো অস্তিত্ব নেই। তারা বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী।
লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীকে আক্রমণ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কংগ্রেস ভুয়া ভোটের মাধ্যমে নির্বাচন দখল করতে চায়। তিনি বলেন, ‘একজনের যদি দুটি ভোট থাকে, তাহলে একটি বাতিল করা উচিত কিনা? এবার আসি ‘রাহুল বাবার’ পেটব্যথার কারণ প্রসঙ্গে। তিন কোটি ভোট এমন মানুষের, যাদের কোনো অস্তিত্বই নেই। তারা বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী।’
তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী রেভন্ত রেড্ডিকেও আক্রমণ করেন অমিত শাহ। তিনি বলেন, রাহুল গান্ধীর সঙ্গে মিলে যত চেষ্টাই করা হোক না কেন, বিজেপি ভোটার তালিকা থেকে প্রত্যেক অনুপ্রবেশকারীর নাম বাদ দেওয়া এবং তাদের দেশ থেকে বের করে দেওয়ার ব্যবস্থা করবে।
এসআইআর নিয়ে রাহুল গান্ধীর আরেকটি বক্তব্যের জবাবও দেন অমিত শাহ। রাহুলের দাবি ছিল, এসআইআরের কারণে নরেন্দ্র মোদি নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন। এর জবাবে শাহ বলেন, ২০১৪ সালে মোদি জয়ী হয়েছিলেন, তখন তো এসআইআর ছিল না। ২০১৯ সালেও এসআইআর ছাড়াই তিনি জয়ী হয়েছেন। মোদি জনগণের ভোটেই জয়ী হয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের পর মহারাষ্ট্রে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে বিজেপি। হরিয়ানাতেও বড় ব্যবধানে জয় এসেছে। ৩০ বছর পর দিল্লিতে জয় পেয়েছে দলটি। বিহারেও বড় ব্যবধানে জিতেছে বিজেপি। পশ্চিমবঙ্গেও ‘দিদির পুরো রাজনৈতিক অবস্থান মুছে গেছে’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অমিত শাহের অভিযোগ, কংগ্রেস ও তাদের মিত্ররা এসআইআরের বিরোধিতা করছে, কারণ অনুপ্রবেশকারীরা তাদের ভোটব্যাংক। অন্যদিকে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) কর্মীরা এসআইআরের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এ দেশে শুধু এ দেশের নাগরিকরাই ভোট দিতে পারবেন।’
এ সময় ভারতের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন শাহ। তিনি বলেন, ‘সর্দার প্যাটেল যদি সে সময় নিজামের মাথা নত করাতে না পারতেন, তাহলে আজ হায়দরাবাদ ভারতের অংশ হতো না।’
এসআইআরের বিরুদ্ধে ইন্ডিয়া জোটের প্রচারের পাল্টা কর্মসূচির অংশ হিসেবে সোমবার হায়দরাবাদে বিজেপির দেশব্যাপী প্রচারাভিযানের অংশ হিসেবে ‘মহা পদযাত্রা’য় নেতৃত্ব দেন অমিত শাহ।
শহরের প্রাণকেন্দ্র বশিরবাগে বাবু জগজীবন রামের মূর্তির সামনে থেকে পদযাত্রা শুরু হয়। জাতীয় পতাকা হাতে এতে অংশ নেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জি কিষান রেড্ডি, বান্দি সঞ্জয় কুমার, তেলেঙ্গানা বিজেপির সভাপতি এন রামচন্দর রাও, দলের সংসদ সদস্য, বিধায়ক, বিধান পরিষদ সদস্যসহ কয়েকশ নেতাকর্মী।