খাবার হজমে পাকস্থলীতে যে তরল তৈরি হয়, তাতে প্রচুর এসিড থাকে।কখনো এই এসিড পাকস্থলীর সুরক্ষাব্যবস্থা ভেদ করে ভেতরের আবরণে জ্বালা সৃষ্টি করে। একে বলা হয় গ্যাস্ট্রাইটিস।
ধূমপান ও অ্যালকোহল গ্রহণকারীদের ঝুঁকি বেশি।সাধারণত পাকস্থলীর এসিড কমানোর ওষুধ বা অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে চিকিৎসা করা হয়।
সাধারণত ব্যথা নাভির আশপাশে শুরু হয়ে ডান পাশে ছড়িয়ে পড়ে। অ্যাপেন্ডিক্স ফেটে গেলে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই সন্দেহ হলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।
গলব্লাডার অ্যাটাক
পিত্তথলিতে তৈরি ছোট পাথর বা গলস্টোন পিত্তনালিতে আটকে গেলে তীব্র পেটব্যথা হতে পারে।
বমি, জ্বর, গাঢ় রঙের প্রস্রাব বা ফ্যাকাশে পায়খানাও হতে পারে। অনেক সময় পাথর নিজে থেকেই সরে যায়, তবে জটিল হলে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে।
ইনকারসারেটেড হার্নিয়া
হার্নিয়া হলে অন্ত্রের একটি অংশ পেটের দেয়ালের বাইরে চলে আসে। সেটি যদি পেঁচিয়ে গিয়ে রক্ত চলাচল বন্ধ করে দেয়, তাহলে তীব্র ব্যথা হয়।
এ অবস্থায় দ্রুত অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হতে পারে।
কোষ্ঠকাঠিন্য
পর্যাপ্ত পানি পান, ব্যায়াম এবং আঁশযুক্ত খাবার কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সাহায্য করে।
তবে সপ্তাহে তিনবারের কম পায়খানা হওয়া, অতিরিক্ত চাপ দেওয়া বা শক্ত মল হওয়া গুরুতর সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
প্যানক্রিয়াটাইটিস
অগ্ন্যাশয়ে প্রদাহ হলে তাকে প্যানক্রিয়াটাইটিস বলা হয়। এতে ওপরের পেটে ব্যথা হয়, যা খাওয়ার পর আরও বাড়তে পারে। বমিভাব ও বমিও হতে পারে।
মৃদু ক্ষেত্রে বিশ্রামে সেরে গেলেও গুরুতর ক্ষেত্রে হাসপাতালে ভর্তি হতে হতে পারে।

স্টমাক ভাইরাস
অনেকেই একে “স্টমাক ফ্লু” বলে থাকেন। এটি অন্ত্রের ভাইরাসজনিত সংক্রমণ। এ সময় পাতলা পায়খানা, পেটে মোচড়, বমিভাব ও বমি হতে পারে।
আক্রান্ত ব্যক্তি বা দূষিত খাবার থেকে এটি ছড়ায়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আলাদা চিকিৎসা ছাড়াই সেরে যায়। তবে জ্বর, পানিশূন্যতা বা বমি-পায়খানায় রক্ত দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
ইনফ্ল্যামেটরি বাওয়েল ডিজিজ (আইবিডি)
আইবিডির প্রধান দুটি ধরন হলো আলসারেটিভ কোলাইটিস ও ক্রোন্স ডিজিজ। এতে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা অন্ত্রে অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখায় এবং প্রদাহ সৃষ্টি করে।
ডায়রিয়া, পেটব্যথা, জ্বর, জয়েন্টে ব্যথা ও ত্বকে র্যাশ দেখা দিতে পারে। ওষুধ ও জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমে এটি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
ডাইভার্টিকুলাইটিস
বৃহদান্ত্রের দেয়ালে ছোট ছোট থলির মতো অংশ তৈরি হতে পারে, যেগুলো সাধারণত ক্ষতিকর নয়। তবে এগুলোতে প্রদাহ বা সংক্রমণ হলে তীব্র পেটব্যথা, বমিভাব ও মলত্যাগের অভ্যাসে পরিবর্তন দেখা দেয়।
ফুড পয়জনিং
খাবারে থাকা ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা পরজীবীর কারণে ফুড পয়জনিং হয়। এতে ডায়রিয়া, বমি ও বমিভাব দেখা দেয়। সাধারণত খাবার সঠিকভাবে সংরক্ষণ বা রান্না না করলে এ সমস্যা হয়।
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটি নিজে থেকেই ভালো হয়ে যায়। তবে তিন দিনের বেশি ডায়রিয়া থাকলে, শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিলে বা রক্তমিশ্রিত পায়খানা হলে চিকিৎসা নিতে হবে।
ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (আইবিএস)
এটি বৃহদান্ত্রের একটি সাধারণ সমস্যা। এতে পেটে মোচড়, গ্যাস, পেট ফাঁপা এবং মলে শ্লেষ্মা দেখা দিতে পারে। কখনও ডায়রিয়া, কখনও কোষ্ঠকাঠিন্য হয়।
খাদ্যাভ্যাস, মানসিক চাপ, হরমোন বা সংক্রমণ এর কারণ হতে পারে বলে ধারণা করা হয়। জীবনযাত্রা ও খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স
দুধ ও দুগ্ধজাত খাবারে থাকা ল্যাকটোজ নামের শর্করা ভাঙতে শরীরে ল্যাকটেজ নামের এনজাইম প্রয়োজন হয়। এই এনজাইমের ঘাটতি থাকলে দুধজাত খাবার হজমে সমস্যা হয়।
ফলে ডায়রিয়া, গ্যাস, পেট ফাঁপা ও পেটব্যথা হতে পারে। যদিও এর স্থায়ী চিকিৎসা নেই, তবে ল্যাকটোজমুক্ত খাবার বা নির্দিষ্ট ওষুধ ব্যবহারে সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

পেলভিক ইনফ্ল্যামেটরি ডিজিজ (পিআইডি)
এটি নারীদের প্রজননতন্ত্রের প্রদাহজনিত রোগ। সাধারণত ক্ল্যামাইডিয়া বা গনোরিয়ার মতো যৌনবাহিত সংক্রমণের পর এটি হয়।
পেটব্যথার পাশাপাশি জ্বর, অস্বাভাবিক স্রাব, সহবাসের সময় ব্যথা বা রক্তপাত হতে পারে। দ্রুত শনাক্ত হলে অ্যান্টিবায়োটিকে চিকিৎসা সম্ভব। দেরি হলে প্রজননতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।