দুই বছরের নিচের শিশুকে তালমিছরি কিংবা অন্য কোনো ধরনের বাড়তি চিনি দেওয়া শরবত খাওয়ানো থেকে বিরত থাকা উচিত। কারণ শিশুর জীবনের প্রথম দুই বছর কোনো ধরনের অ্যাডেড সুগার (চিনি বা মিষ্টিজাতীয় পানীয়) দেওয়া অনুচিত। অনেকেই বাড়িতে খুব ছোট শিশুকে তালমিছরি নিয়মিত খাওয়ান। এ অভ্যাস কতটা ভালো জানেন কি?
এ বিষয়ে পুষ্টিবিদ অনন্যা ভৌমি বলেছেন, চিনির মিছরি বা তালমিছরি, কোনোটাতেই পুষ্টিগুণ তেমন মেলে না। তবে খাঁটি তালমিছরিতে খুব স্বল্প পরিমাণে হলেও পটাশিয়াম, আয়রন ও ক্যালশিয়াম থাকে। চিনির তুলনায় তালমিছরির গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম। ফলে চিনি খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা যত দ্রুত বৃদ্ধি পাবে, এতে নয়। এ ছাড়া এতে থাকে কার্বোহাইড্রেট ও শর্করা। সুগারের রোগীদের ক্ষেত্রে চিনির বিকল্প তালমিছরি হতে পারে না।
তালমিছরি খেলেও রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়বে। তবে চিনির থেকে একটু কম। যিনি ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন, তাকেও তালমিছরি বাদ দিতে হবে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্ক মানুষ, যাদের শরীর দুর্বল, তাদের জন্য মিছরির পানি ভালো। মিছরির শর্করা ও কার্বোহাইড্রেট দ্রুত শক্তি জোগাতে সাহায্য করে। তা ছাড়া গরমে ঘেমে ক্লান্ত হয়ে গেলেও এ পানি শরীর ঠান্ডা রাখার পাশাপাশি দ্রুত ক্যালোরির ঘাটতি পূরণ করে। আবার পিসিওএস, কিডনির সমস্যা থাকলে, সুক্রোজ খাওয়া নিষেধ হলে তালমিছরি খাওয়া বন্ধ করতে হবে।
অনেক বাড়িতেই খুব ছোট শিশুকে তালমিছরি খাওয়ানো হয় নিয়মিত। এ বিষয়ে চিকিৎসক অর্পণ সাহা বলেছেন, ‘তালমিছরির মিষ্টতা সাধারণ চিনির তুলনায় অর্ধেক। তবে এটিও তাল থেকে তৈরি হওয়া এক ধরনের প্রসেস্ড সুগার। দুই বছরের নিচের শিশুকে প্রক্রিয়াজাত চিনি দিতে সব সময়েই নিষেধ করা হয়। আর সে কারণেই তালমিছরি তাদের খাওয়ানো চলবে না।