রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো মুমিনের দুনিয়ার একটি কষ্ট দূর করবে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার একটি কষ্ট দূর করবেন।
৪. উদ্ধার ও ত্রাণকাজে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে অংশগ্রহণ করা
যাদের শারীরিক সক্ষমতা রয়েছে, তারা উদ্ধার অভিযান, ত্রাণ বিতরণ, চিকিৎসা সহায়তা, আশ্রয়কেন্দ্র পরিচালনা কিংবা দুর্গত মানুষের প্রয়োজনীয় কাজে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে অংশ নিতে পারেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মানুষের মধ্যে সেই ব্যক্তিই সর্বোত্তম, যে মানুষের সবচেয়ে বেশি উপকার করে।
আরও বলেন, ‘তোমরা সবাই আল্লাহর কাছে তাওবা করো, হে মুমিনগণ! যাতে তোমরা সফল হতে পারো।’ (সুরা : নুর, আয়াত : ৩১)
৬. সাহায্য করতে গিয়ে লোক দেখানো থেকে বিরত থাকা
মানুষের প্রশংসা বা সামাজিক মাধ্যমে প্রচারের জন্য নয়; বরং একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে সাহায্য করতে হবে। ইখলাস বা আন্তরিকতাই আমলের প্রাণ। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তারা বলে, আমরা তো কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই তোমাদের খাদ্য দান করি; তোমাদের কাছে কোনো প্রতিদান বা কৃতজ্ঞতা চাই না।’ (সুরা আল-ইনসান, ৭৬:৯)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সমস্ত আমলের প্রতিদান নিয়তের ওপর নির্ভরশীল।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৯০৭)
দুর্যোগের সময় একজন মুমিন শুধুমাত্র দর্শক হয়ে থাকতে পারে না। সে নিজের সাধ্য অনুযায়ী মানুষের পাশে দাঁড়ায়, আল্লাহর কাছে তাদের জন্য দোয়া করে, ইখলাসের সঙ্গে দান-সদকা করে এবং সমাজে সহযোগিতা ও ভ্রাতৃত্বের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। মনে রাখতে হবে, আজ যারা বিপদে পড়েছেন, কাল হয়তো আমরাও একই পরীক্ষার সম্মুখীন হতে পারি। তাই আসুন, আমরা সবাই আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াই, তাদের কষ্ট লাঘবে সর্বাত্মক চেষ্টা করি এবং বেশি বেশি তাওবা ও দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর রহমত কামনা করি। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে মানবতার সেবায় আত্মনিয়োগ করার এবং বিপদগ্রস্ত মানুষের প্রকৃত সহায়ক হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।