খাদ্যাভ্যাস বা শরীরচর্চায় কোনো পরিবর্তন না এনেও যদি হঠাৎ ওজন কমতে থাকে, বিষয়টি নজরে রাখা দরকার।বিশেষ করে কয়েক মাসের মধ্যে প্রায় সাড়ে চার কেজি বা তার বেশি ওজন কমে গেলে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা ভালো। অনেক কারণেই ওজন কমতে পারে। তবে কিছু ক্ষেত্রে এটি ক্যানসারের প্রাথমিক সংকেতও হতে পারে। তাই ইচ্ছাকৃত নয় এমন ওজন কমাকে দীর্ঘদিন অবহেলা না করাই ভালো।
সারা দিন কাজ করার পর ক্লান্ত লাগা স্বাভাবিক।কিন্তু পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রামের পরও যদি অস্বাভাবিক দুর্বলতা বা প্রচণ্ড ক্লান্তি থেকে যায় তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। কিছু ক্ষেত্রে ক্যান্সার শরীরের পুষ্টি ও শক্তির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে স্বাভাবিক কাজ করতেও অতিরিক্ত ক্লান্তি অনুভূত হতে পারে। তবে রক্তস্বল্পতা, ঘুমের সমস্যা, মানসিক চাপসহ আরো অনেক কারণেও এমন ক্লান্তি হতে পারে।
সর্দি-জ্বর বা সংক্রমণের কারণে জ্বর হওয়া খুবই সাধারণ। সাধারণত কারণটি সেরে গেলে জ্বরও কমে যায়। তবে কোনো স্পষ্ট সংক্রমণের লক্ষণ ছাড়াই যদি বারবার জ্বর আসে, বিশেষ করে রাতে জ্বর হওয়ার সঙ্গে অতিরিক্ত ঘাম হয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কিছু ধরনের ক্যানসারের সঙ্গে এমন পুনরাবৃত্ত জ্বরের সম্পর্ক থাকতে পারে।
শরীরের কোথাও ব্যথা হওয়া মানেই ক্যান্সার নয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ব্যথার পেছনে অন্য কারণ থাকে। কিন্তু কোনো ব্যথা যদি দীর্ঘদিন ধরে থাকে, বারবার ফিরে আসে কিংবা ক্রমেই বাড়তে থাকে এবং এর স্পষ্ট কারণ জানা না যায়, তাহলে পরীক্ষা করানো প্রয়োজন। ক্যান্সারের ক্ষেত্রে টিউমার আশপাশের অঙ্গ বা টিস্যুর ওপর চাপ সৃষ্টি করে ব্যথা তৈরি করতে পারে। আবার রোগ শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়লেও ব্যথা দেখা দিতে পারে।
ত্বক আমাদের শরীরের সবচেয়ে বড় অঙ্গ। তাই ত্বকের নতুন বা অস্বাভাবিক পরিবর্তনও কখনো কখনো গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হতে পারে। চোখ বা ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়া, বিশেষ করে জন্ডিসের মতো পরিবর্তন দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত। পাশাপাশি শরীরের কোনো তিলের আকৃতি বা রঙ বদলে গেলে সেটিও নজরে রাখা প্রয়োজন। বিশেষ করে তিলটি যদি দুই পাশে অসমান হয়, কিনারা অনিয়মিত হয়, রঙ পরিবর্তন করে বা আরো গাঢ় হয়ে যায়, আকারে বড় হতে থাকে কিংবা নতুন করে বাড়তে থাকে তাহলে চিকিৎসকের কাছে দেখানো জরুরি।
এই পাঁচটি লক্ষণ মানেই যে ক্যান্সার বিষয়টা কিন্তু এমন নয়। তবে এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে সতর্ক হতে হবে। এমন চলতে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারে। কারণ সময়মতো চিকিৎসা নিলে বড় রোগও ভালো হয়।