বিশেষজ্ঞরা জানান, সকালে এমন কিছু লক্ষণ দেখা দেয় যেটা দেখলে সাবধান হতে হবে। এরমধ্যে অন্যতম হচ্ছে সকালে ঘুম ভাঙার পর হালকা কাশি।বেশিরবাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় অনেকে এটাকে সাধারণ ঠাণ্ডা ভেবে এড়িয়ে যান। কিন্তু যদি দীর্ঘদিন সকালে কাশি হয় তাহলে সেটা একেবারেই স্বাভাবিক নয় বলছেন চিকিৎসকরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী সকালের কাশি কখনো কখনো গুরুতর কোনো রোগের, এমনকি ক্যান্সারেরও সতর্কসংকেত হতে পারে।
মানবদেহের স্বাভাবিক কোষ যখন অস্বাভাবিকভাবে পরিবর্তিত হয়ে টিউমার কোষে পরিণত হয়, তখন ক্যান্সারের সৃষ্টি হতে পারে। এটি ধীরে ধীরে বিভিন্ন পর্যায় অতিক্রম করে প্রি-ক্যানসারাস অবস্থা থেকে ম্যালিগন্যান্ট টিউমারে পরিণত হতে পারে।
তামাক ব্যবহার, অতিরিক্ত অ্যালকোহল পান, অস্বাস্থ্যকর খাবার, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব এবং বায়ুদূষণ ক্যান্সারের গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকির কারণ। কিছু দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণও পরবর্তী সময়ে ক্যান্সারের কারণ হতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংথা তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে বিশ্বব্যাপী শনাক্ত হওয়া ক্যান্সারের প্রায় ১৩ শতাংশের সঙ্গে ক্যান্সার-সৃষ্টিকারী সংক্রমণের সম্পর্ক ছিল। এর মধ্যে হেলিকোব্যাক্টার পাইলোরি, এইচপিভি, হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাস এবং এপস্টাইন-বার ভাইরাস উল্লেখযোগ্য।
জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে। সুষম খাবার খাওয়া, তামাক ও অ্যালকোহল এড়িয়ে চলা, নিয়মিত শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা, প্রয়োজনীয় টিকা নেয়া এবং অতিবেগুনি রশ্মির অতিরিক্ত সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা গুরুত্বপূর্ণ।
তবে সকালের কাশি মানেই ক্যান্সার এমন নয়। ঠাণ্ডা, অ্যালার্জি, অ্যাসিড রিফ্লাক্স বা অন্যান্য শ্বাসতন্ত্রের সমস্যাতেও কাশি হতে পারে। কিন্তু কোনো কাশি যদি দুই সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয়, বিশেষ করে ধূমপানের অভ্যাস থাকলে, কারণ জানতে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই ভালো।