পুরুষের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রোস্টেট ধীরে ধীরে বড় হতে পারে। বিপিএইচ সাধারণত ক্যানসার নয়, তবে প্রোস্টেট বড় হয়ে মূত্রনালির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।ফলে মূত্রথলি পুরোপুরি খালি করতে বেশি পরিশ্রম করতে হয়। সময়ের সঙ্গে মূত্রথলিতে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হলে প্রস্রাবের বেগ ও বারবার প্রস্রাবের প্রবণতা বাড়তে পারে। এর ফলে এমন হতে পারে যে, রাতে খুব বেশি পানি না খেলেও একজন পুরুষকে একাধিকবার ঘুম থেকে উঠে বাথরুমে যেতে হচ্ছে।
শুধু রাতে বারবার প্রস্রাব হওয়াই প্রোস্টেটের সমস্যার লক্ষণ নয়। আরো কিছু পরিবর্তন দেখা দিতে পারে—
১. প্রস্রাবের ধারা দুর্বল হয়ে যাওয়া
আগের তুলনায় প্রস্রাবের চাপ বা গতি কমে যেতে পারে
৩. প্রস্রাবের ধারা বারবার বন্ধ হয়ে আবার শুরু হওয়া
একটানা প্রস্রাব না হয়ে মাঝেমধ্যে থেমে যেতে পারে।
৪. প্রস্রাব করার সময় চাপ দিতে হওয়া
স্বাভাবিকভাবে প্রস্রাব বের না হওয়ায় অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ করতে হতে পারে।
৫. প্রস্রাবের পর ফোঁটা ফোঁটা পড়া
বাথরুম থেকে বের হওয়ার পরও কিছুক্ষণ প্রস্রাব ঝরতে পারে।
৬. মূত্রথলি পুরোপুরি খালি হয়নি এমন অনুভূতি
প্রস্রাব করার পরও মনে হতে পারে যে ভেতরে কিছুটা প্রস্রাব রয়ে গেছে।
রাতে প্রস্রাব হলেই কি প্রোস্টেট বড় হয়েছে?
রাতে বারবার প্রস্রাব হওয়ার পেছনে শুধু প্রোস্টেটের সমস্যা দায়ী নয়। সন্ধ্যার পর অতিরিক্ত পানি পান, চা-কফির মতো ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়, অ্যালকোহল, অতিসক্রিয় মূত্রথলি, ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন (ইউটিআই), ডায়াবেটিস, কিছু ওষুধ এবং রাতে শরীরে বেশি পরিমাণ প্রস্রাব তৈরি হওয়ার মতো কারণও থাকতে পারে। এমনকি ঘুমের সমস্যাও এর সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। অনেক সময় অন্য কোনো কারণে ঘুম ভেঙে যাওয়ার পর ব্যক্তি বাথরুমে চলে যান।
নিয়মিত রাতে ঘুম ভেঙে প্রস্রাব করতে হলে লক্ষণগুলো লক্ষ্য করুন। বিশেষ করে যদি সমস্যা বেড়েই যায় অপেক্ষা না করে চিকিৎসকের কাছে যাওয়াই ভালো। প্রয়োজনে চিকিৎসক ইউরিন টেস্ট, রক্ত পরীক্ষা, আল্ট্রাসাউন্ড, ইউরিন ফ্লো পরীক্ষা এবং প্রোস্টেটের মূল্যায়ন করতে পারেন। এরপর সমস্যার কারণ ও তীব্রতা অনুযায়ী চিকিৎসা নির্ধারণ করা হয়।