নামাজ মানুষের চরিত্র ও জীবনকে পরিশুদ্ধ করার প্রশিক্ষণ। যে ব্যক্তি দিনে পাঁচবার আল্লাহর সামনে দাঁড়ায়, নিজের ভুলের জন্য ক্ষমা চায় এবং আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করে, তার মধ্যে ধীরে ধীরে আল্লাহভীতি ও আত্মসংযম তৈরি হবে। কেননা নামাজ মুমিনকে পাপ থেকে দূরে রাখে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই নামাজ অশ্লীলতা ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে।’ (সুরা : আনকাবুত, আয়াত : ৪৫)
অনেক সময় মানুষ পার্থিব কাজের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা ব্যয় করতে পারে, কিন্তু নামাজের কয়েক মিনিটের জন্য সময় বের করতে কষ্ট অনুভব করে। অথচ মুমিনের কাছে বিষয়টি হওয়া উচিত সম্পূর্ণ বিপরীত। জীবনের দুঃসময়, ক্লান্তি ও সংকটেও নামাজ মুমিনের জন্য আল্লাহর সাহায্য লাভের একটি মাধ্যম। তাই মুমিন যখন বিপদে পড়ে, তখন নামাজ থেকে দূরে সরে যায় না; বরং নামাজের মাধ্যমেই আল্লাহর আরও কাছে ফিরে যায়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১৫৩)
নামাজে অলসতা দূর করতে করণীয়
এক. নামাজের গুরুত্ব মনে রাখা। এটি আল্লাহর ফরজ বিধান এবং মুমিনের জীবনের প্রধান ইবাদতগুলোর একটি—এ অনুভূতি হৃদয়ে জাগ্রত রাখতে হবে।
দুই. আজানকে গুরুত্ব দেওয়া। আজান শোনার পর অপ্রয়োজনীয় কাজ ফেলে নামাজের প্রস্তুতি নেওয়ার অভ্যাস করতে হবে।
তিন. নামাজকে দিনের কাজের মাঝে নয়, দিনের কাজকে নামাজের সময়ের মাঝে সাজাতে হবে। অর্থাৎ নামাজের সময় যেন কাজের কারণে নির্ধারিত না হয়; বরং কাজের পরিকল্পনা নামাজের সময়কে কেন্দ্র করে করা উচিত।
চার. ঘুম ও রাতজাগার ব্যাপারে সচেতন হওয়া। বিশেষত ফজরের নামাজে অলসতার বড় কারণ অনিয়ন্ত্রিত রাতজাগা। তাই সময়মতো ঘুমানোর অভ্যাস করতে হবে।
পাঁচ. নামাজে মনোযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করা। যে ব্যক্তি বুঝে-শুনে কিরাত ও তাসবিহ পড়ে, তার কাছে নামাজের স্বাদ ও গুরুত্ব বৃদ্ধি পায়।
আল্লাহ তাআলা আমাদের নামাজকে ভালোবাসার, সময়মতো আদায় করার, খুশু-খুজুর সঙ্গে পড়ার এবং জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নামাজের ওপর অবিচল থাকার তাওফিক দান করুন। আমাদের অন্তরকে নামাজের মাধ্যমে জীবন্ত করে দিন এবং নামাজকে আমাদের দুনিয়ার শান্তি ও আখিরাতের নাজাতের মাধ্যম বানিয়ে দিন। আমিন।