চোখের পানি তৈরি হয় চোখের ওপরের বাইরের দিকে থাকা অশ্রুগ্রন্থি বা ল্যাক্রিমাল গ্ল্যান্ডে।চোখকে আর্দ্র রাখা, ধুলাবালি ও জীবাণুর মতো ক্ষতিকর উপাদান থেকে সুরক্ষা দেওয়া এবং চোখের পৃষ্ঠ পরিষ্কার রাখতে এই পানি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বিশেষ করে গাল ও চোখের চারপাশের পেশি সংকুচিত হয়। এতে অশ্রুগ্রন্থির ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে চোখের কোণ দিয়ে পানি নিষ্কাশনের পথেও সাময়িক প্রভাব পড়ে। ফলে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি পানি জমে চোখের বাইরে গড়িয়ে আসে।এটি কি একধরনের রিফ্লেক্স?
হ্যাঁ, হাসতে হাসতে চোখে পানি আসার পেছনে রিফ্লেক্স টিয়ার বা প্রতিবর্তী অশ্রু নিঃসরণের ভূমিকা থাকতে পারে।
একইভাবে খুব জোরে হাসার সময়ও মুখের পেশির নড়াচড়া এবং চোখের ওপর চাপের কারণে অশ্রু জমতে পারে। ফলে হাসির দমক থামার আগেই চোখ ভিজে যায়।

হাসি ও আবেগের সম্পর্ক
শুধু পেশির সংকোচন নয়, তীব্র আবেগেরও ভূমিকা থাকতে পারে। অতিরিক্ত আনন্দ, উত্তেজনা কিংবা আবেগের মুহূর্তে মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ সক্রিয় হয়। কখনো হাসি ও কান্নার শারীরিক প্রতিক্রিয়া কাছাকাছি সময়ে দেখা দিতে পারে। এ কারণে খুব আনন্দের মুহূর্তেও চোখে পানি চলে আসতে পারে।
অর্থাৎ, হাসতে হাসতে চোখে পানি আসা সব সময় দুঃখ বা কান্নার লক্ষণ নয়। কখনো এটি শারীরিক প্রতিক্রিয়া, আবার কখনো তীব্র আবেগের প্রকাশ।
সবার ক্ষেত্রে কি এমন হয়?
না, সবার ক্ষেত্রে হাসির সময় চোখে পানি আসার প্রবণতা এক রকম নয়। কেউ জোরে হাসলেও চোখে পানি অনুভব করেন না, আবার কারও সামান্য হাসিতেই চোখ ভিজে যায়। অশ্রু তৈরির পরিমাণ, চোখের পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া এবং ব্যক্তিভেদে শারীরিক পার্থক্যের কারণে এমন হতে পারে।
কখন সতর্ক হওয়া প্রয়োজন?
শুধু হাসির সময় চোখে পানি আসা সাধারণত উদ্বেগের কারণ নয়। তবে হাসি ছাড়াও নিয়মিত চোখ দিয়ে পানি পড়লে বিষয়টি খেয়াল করা প্রয়োজন। চোখের অ্যালার্জি, সংক্রমণ, চোখের শুষ্কতা কিংবা অশ্রুনালিতে বাধা তৈরি হলে অতিরিক্ত পানি পড়তে পারে।
চোখ লাল হওয়া, ব্যথা, চুলকানি, দৃষ্টিতে সমস্যা কিংবা দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত পানি পড়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সব মিলিয়ে, হাসতে হাসতে চোখ দিয়ে পানি পড়া শরীরের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়ার অংশ হতে পারে। তাই প্রাণ খুলে হাসার সময় চোখ ভিজে গেলে সেটিকে সব সময় কান্না বা মন খারাপের লক্ষণ ভাবার কারণ নেই।