সম্প্রতি মেকারফিল্ড উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রায় এক দশক পর পার্লামেন্টে ফিরেছেন বার্নহ্যাম। নির্বাচনের আগেই তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, সুযোগ পেলে লেবার পার্টির নেতৃত্বের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
শ্রমজীবী ভোটারদের লেবারে ফেরাতে পারবেন?
বার্নহ্যামের সমর্থকদের মতে, তিনি এমন একজন নেতা যিনি লেবার পার্টিকে আবারও শ্রমজীবী ও উত্তর ইংল্যান্ডের ভোটারদের সঙ্গে সংযুক্ত করতে পারবেন।
তবে সমালোচকদের প্রশ্ন, উত্তর ইংল্যান্ডে তার জনপ্রিয়তা কি পুরো যুক্তরাজ্যে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য যথেষ্ট হবে?
কে এই অ্যান্ডি বার্নহ্যাম?
১৯৭০ সালের জানুয়ারিতে ইংল্যান্ডের মার্সিসাইডে জন্মগ্রহণ করেন অ্যান্ড্রু মারে বার্নহ্যাম। ২০০১ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত তিনি লি আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউনের মন্ত্রিসভায় তিনি ট্রেজারির প্রধান সচিব, সংস্কৃতিমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রীর মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
২০১৫ ও ২০১৭ সালে তিনি লেবার পার্টির নেতৃত্বের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও সফল হননি।
কেন ‘কিং অব দ্য নর্থ’?
ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান বলছে, ২০২০ সালে কোভিড-১৯ মহামারির সময় বার্নহ্যাম তৎকালীন কনজারভেটিভ সরকারের বিরুদ্ধে উত্তর ইংল্যান্ডের জন্য আর্থিক সহায়তা বৃদ্ধির দাবি তোলেন। তার অভিযোগ ছিল, লন্ডন ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলকে অগ্রাধিকার দিয়ে উত্তরাঞ্চলকে অবহেলা করা হচ্ছে।
এই অবস্থানের কারণে তিনি উত্তর ইংল্যান্ডের মানুষের কাছে প্রতিরোধের প্রতীক হয়ে ওঠেন। যার ফলে সমর্থকরা তাকে ‘গেম অব থ্রোনসের’ জনপ্রিয় চরিত্রদের সঙ্গে তুলনা করে ‘কিং অব দ্য নর্থ’ উপাধি দেন। যা পরে তার রাজনৈতিক পরিচয়ের অংশ হয়ে উঠে।
মেয়র হিসেবে সাফল্য
গ্রেটার ম্যানচেস্টরের মেয়র হিসেবে বার্নহ্যামের অন্যতম বড় সাফল্য ছিল ‘বি নেটওয়ার্ক বা মৌমাছি নেটওয়ার্ক’ নামে সমন্বিত গণপরিবহন ব্যবস্থা চালু করা। এর মাধ্যমে বাস ও ট্রাম সেবাকে (পৌর রেল পরিবহন) একীভূত করা হয় এবং ভাড়া ব্যবস্থা সহজ করা হয়।
এছাড়া তিনি দক্ষতা, উন্নয়ন কর্মসূচি, স্থানীয় অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং সাশ্রয়ী আবাসন প্রকল্পে জোর দেন। যদিও গৃহহীনতা কমানোর কিছু লক্ষ্য পূরণ না হওয়ায় সমালোচনারও মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে।
প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে চ্যালেঞ্জ
বার্নহ্যামের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে তার আঞ্চলিক জনপ্রিয়তাকে জাতীয় সমর্থনে রূপান্তর করা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রী হতে হলে তাকে শুধু ইংল্যান্ড নয়, স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের ভোটারদেরও আস্থা অর্জন করতে হবে।
তবুও স্টারমারের পদত্যাগের পর ব্রিটিশ রাজনীতিতে বার্নহ্যামের উত্থান নতুন আগ্রহ তৈরি করেছে। এখন দেখার বিষয়, ‘কিং অব দ্য নর্থ’ সত্যিই কি ব্রিটিশ রাজনীতির ‘আয়রন থ্রোন’ দখল করতে পারেন, নাকি তিনি কেবল আলোচনার কেন্দ্রেই সীমাবদ্ধ থাকবেন।