তাওবা কী?
‘তাওবা’ অর্থ ফিরে আসা। শরিয়তের পরিভাষায় গুনাহ পরিত্যাগ করে আন্তরিকভাবে আল্লাহর দিকে ফিরে আসা এবং ভবিষ্যতে সেই গুনাহে ফিরে না যাওয়ার দৃঢ় সংকল্প করাই তাওবা। আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর কাছে আন্তরিক তাওবা করো।’ (সুরা : তাহরিম, আয়াত : ৮)
গুনাহের পর দুই রাকাত সালাত
গুনাহ হয়ে গেলে অজু করে দুই রাকাত নফল সালাত আদায় করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া তাওবার একটি সুন্দর আমল।
তাওবার সময় আল্লাহর কাছে নিজের গুনাহ স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়া উচিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে বর্ণিত একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্তিগফার হলো,
أَسْتَغْفِرُ اللهَ الَّذِي لَا إِلٰهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ
উচ্চারণ : আস্তাগফিরুল্লা-হাল্লাজি লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল ক্বাইয়্যুমু ওয়া আতুবু ইলাইহি।
অর্থ : আমি সেই আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি, যিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই।
গুনাহের পর দেরি নয়
অনেক মানুষ মনে করে—‘আরেকটু পরে তাওবা করব।’ এ চিন্তা অত্যন্ত বিপজ্জনক। কারণ মানুষ জানে না তার জীবন কখন শেষ হয়ে যাবে। আল্লাহ বলেন, ‘তাওবা তাদের জন্য নয়, যারা মন্দ কাজ করতেই থাকে; অবশেষে যখন তাদের কারও মৃত্যু উপস্থিত হয়, তখন সে বলে, ‘আমি এখন তাওবা করছি।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ১৮)
তাই গুনাহ হয়ে গেলে আজ নয়, এখনই আল্লাহর দিকে ফিরে আসা উচিত।
তাওবা করে আবার গুনাহ হয়ে গেলে?
মানুষ দুর্বল। কেউ আন্তরিকভাবে তাওবা করার পরও যদি আবার ভুল করে বসে, তাহলে তাকে হতাশ হওয়া যাবে না। আবার তাওবা করতে হবে। তবে তাওবা যেন মুখের কথায় সীমাবদ্ধ না থাকে; গুনাহের পরিবেশ, সঙ্গ ও কারণ থেকে নিজেকে দূরে রাখার বাস্তব চেষ্টা করতে হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ তাঁর বান্দার তাওবায় অত্যন্ত আনন্দিত হন।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৭৪৭)
তাওবার পর জীবন কেমন হবে
সত্যিকারের তাওবার প্রভাব মানুষের জীবনে দেখা যায়। তাওবাকারী ব্যক্তি—
১. গুনাহকে ঘৃণা করবে,
২. নেক আমলের প্রতি আগ্রহী হবে,
৩. আল্লাহকে বেশি স্মরণ করবে,
৪. মানুষের অধিকার রক্ষা করবে এবং
৫. পুনরায় গুনাহে না ফেরার জন্য সতর্ক থাকবে। আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাওবাকারীদের ভালোবাসেন এবং যারা পবিত্র থাকে তাদেরও ভালোবাসেন।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২২২)
গুনাহ মানুষের জীবনে অন্ধকার নামিয়ে আনে, কিন্তু তাওবা সেই অন্ধকারের মধ্যে আলোর দরজা খুলে দেয়। একজন মানুষ যত বড় ভুলই করুক, যতক্ষণ তার জীবন আছে এবং তাওবার সুযোগ রয়েছে, ততক্ষণ আল্লাহর রহমত থেকে তার নিরাশ হওয়ার কারণ নেই। আল্লাহ আমাদের তাওফিক দান করুক। আমিন।