কেননা নামাজ মানুষকে প্রতিদিন বারবার স্মরণ করিয়ে দেয়, পৃথিবীতে তার যত ক্ষমতা, পদমর্যাদা কিংবা কর্তৃত্বই থাকুক না কেন, সে সর্বোপরি আল্লাহর একজন বান্দা। তার প্রতিটি কাজের হিসাব একদিন মহান আল্লাহর কাছে দিতে হবে। এছাড়া নামাজ মানুষকে অন্যায় ও অশ্লীলতা থেকে বিরত রাখে। মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেন, ‘নিশ্চয়ই নামায অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে।
ইসলাম ক্ষমতাকে ব্যক্তিগত অহংকার, প্রভাব বিস্তার কিংবা সম্পদ অর্জনের মাধ্যম হিসেবে দেখতে শেখায় না; বরং ক্ষমতাকে একটি গুরুদায়িত্ব ও আমানত হিসেবে বিবেচনা করে। যে ব্যক্তি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব লাভ করেন, তাঁর কর্তব্য হলো আল্লাহর নির্দেশনা অনুযায়ী ন্যায় ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ ক্ষমতাপ্রাপ্ত মুমিনদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করে ইরশাদ করেন, ‘তারা এমন যে, আমি যদি তাদের পৃথিবীতে ক্ষমতা দান করি, তবে তারা নামায কায়েম করে, যাকাত আদায় করে, সৎকাজের আদেশ দেয় এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধ করে। আর সব কাজের পরিণতি আল্লাহরই হাতে।’ (সুরা : হাজ, আয়াত : ৪১)
একজন মুসলিম শাসক বা প্রশাসকের প্রথম দায়িত্ব হলো নিজে নামাজের ব্যাপারে যত্নবান হওয়া। দায়িত্ব পালনের ব্যস্ততা, সভা-সমাবেশ, সরকারি সফর কিংবা দাপ্তরিক কাজ যেন তাঁকে নামাজ থেকে গাফেল না করে। বরং তাঁর উচিত সময় ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ফরজ নামাজগুলো যথাসময়ে আদায় করা এবং নিজের অধীনস্থদেরও নামাযের গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেওয়া।
একজন আদর্শ প্রশাসক নামাজ ও জনসেবার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখবেন। তিনি যেমন আল্লাহর হক আদায়ে সচেষ্ট থাকবেন, তেমনি মানুষের হক আদায়েও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবেন। এ প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং তোমাদের প্রত্যেককে তার অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৭১৩৮)
অতএব, শাসক-প্রশাসকসহ সমাজের প্রতিটি দায়িত্বশীল ব্যক্তির উচিত নামাজের প্রতি যত্নবান হওয়া এবং এর শিক্ষাকে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ধারণ করা। একই সঙ্গে এমন পরিবেশ গড়ে তোলা প্রয়োজন, যেখানে মানুষ সহজে ও নির্বিঘ্নে নামাজ আদায় করতে পারে।