সচ্ছলতার সময় আল্লাহর প্রতি ভালো ধারণা রাখা তুলনামূলক সহজ। কিন্তু প্রকৃত পরীক্ষা তখনই, যখন চারদিক থেকে বিপদ ঘিরে ধরে। যখন দোয়ার ফল তৎক্ষণাৎ দেখা যায় না, যখন দীর্ঘদিনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়, যখন অসুস্থতা, দারিদ্র্য, পারিবারিক সংকট কিংবা অন্য কোনো বিপদ জীবনকে ভারী করে তোলে—তখনই বোঝা যায়, আল্লাহ সম্পর্কে আমাদের ধারণা কতটা দৃঢ়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই কষ্টের সঙ্গে স্বস্তি রয়েছে। নিশ্চয়ই কষ্টের সঙ্গে স্বস্তি রয়েছে।’ (সুরা : আলাম নাশরাহ, আয়াত : ৫-৬)
অনেক সময় মানুষ অন্যের সম্পদ, বাড়ি, গাড়ি কিংবা জীবনযাত্রা দেখে নিজের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ নিয়ে প্রশ্ন করতে শুরু করে। অথচ রিজিকের পরিমাণ দিয়ে আল্লাহর ভালোবাসা কিংবা অসন্তুষ্টি পরিমাপ করা যায় না। আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহ যাকে চান তার রিজিক প্রশস্ত করেন এবং যাকে চান সীমিত করেন।’ (সুরা : রাদ, আয়াত : ২৬)
আল্লাহর পথে দান করার সময়ও বান্দার অন্তরে আল্লাহর প্রতি সুন্দর ধারণা থাকা প্রয়োজন। কারণ শয়তান তখন মানুষকে ভয় দেখায়—‘এত টাকা দিলে ভবিষ্যতে তোমার অভাব হবে।’ কিন্তু আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা যা কিছু ব্যয় করো, তিনি তার প্রতিদান দেবেন।’ (সুরা : সাবা, আয়াত : ৩৯)
কখনো মানুষ এমন পরিস্থিতিতে পড়ে যায়, যেখানে পৃথিবীর কোনো শক্তি তাকে সাহায্য করতে পারে না। তখন সে অসহায় হয়ে একমাত্র আল্লাহকে ডাকে। আল্লাহ বলেন, ‘বলুন, কে তোমাদের স্থল ও সমুদ্রের অন্ধকার থেকে উদ্ধার করেন, যখন তোমরা তাঁকে বিনয়ের সঙ্গে ও গোপনে ডাকো?’ (সুরা : আনআম, আয়াত : ৬৩)
আল্লাহর প্রতি সুধারণা নিয়ে একটি বড় ভুল ধারণা রয়েছে। কেউ কেউ মনে করে—আল্লাহ তো পরম ক্ষমাশীল, তাই গুনাহ করতেই থাকি; পরে তওবা করে নেব। এটি হুসনে জন্ন নয়; বরং আল্লাহর রহমতকে ভুলভাবে ব্যবহার করা। সত্যিকারের আল্লাহভীতি ও সুধারণা মানুষকে পাপ থেকে দূরে রাখে এবং গুনাহ হয়ে গেলে দ্রুত তওবার দিকে নিয়ে যায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, আল্লাহ তাআলা রাতের বেলায় তাঁর রহমতের হাত প্রসারিত করেন, যাতে দিনের গুনাহগার তওবা করে; আবার দিনের বেলায় তাঁর রহমতের হাত প্রসারিত করেন, যাতে রাতের গুনাহগার তওবা করে। এভাবে চলতে থাকবে যতক্ষণ না সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উদিত হয় (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৭৫৯)