২. দৈনিক পরিকল্পনার অভাব : সফল মানুষের লক্ষ্য স্পষ্ট থাকে—স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি উভয়ই।
৫. অন্যের মূল্যায়ন নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা করা : সফল মানুষ নিজের মূল্য অন্যের প্রশংসা বা সমালোচনার ওপর নির্ভর করান না। তাঁদের নিজস্ব আদর্শ, লক্ষ্য ও আত্মবিশ্বাস থাকে। তাই তাঁরা অযথা মানুষের কথায় ভেঙে পড়েন না।
৬. অতিরিক্ত অজুহাত দেওয়া : সফল মানুষ ব্যর্থতা স্বীকার করতে পারেন, কিন্তু অজুহাত দেখিয়ে দায়িত্ব এড়িয়ে যান না। তাঁরা নিজের কাজের দায়িত্ব নিজেরাই নেন এবং সমস্যার সমাধান খোঁজেন।
৭. অন্যের সফলতায় হিংসা করা : সফল মানুষ প্রতিযোগিতা করেন, কিন্তু হিংসা করেন না। অন্যের সফলতাকে তাঁরা অনুপ্রেরণা হিসেবে গ্রহণ করেন এবং আরো কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেকে উন্নত করার চেষ্টা করেন। হিংসুক ব্যক্তি অন্যকে ক্ষতি করার আগে সে নিজেকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। কেননা শুরুতেই সে হিংসার আগুনে জ্বলতে থাকে। হিংসা দূর না হওয়া পর্যন্ত এটাই তার জন্য স্থায়ী দুনিয়াবি শাস্তি। তার চেহারা সব সময় মলিন থাকে। তার সঙ্গে তার পরিবারে হাসি ও আনন্দ থাকে না। অন্যের ক্ষতি করার চক্রান্তে ও ষড়যন্ত্রে সে সর্বদা ব্যস্ত থাকে। প্রতিপক্ষের হামলার ভয়ে সে সর্বদা ত্রস্ত ও ভীত থাকে। ফলে সৎ সংসর্গ থেকে সে বঞ্চিত হয়। ঘুণ পোকা যেমন কাঁচা বাঁশকে ভেতর থেকে কুরে কুরে খায়, হিংসুক ব্যক্তির অন্তর তেমনি হিংসার আগুন কুরে কুরে খায়। একসময় সে ধ্বংস হয়ে যায়, যেমন ঘুণে ধরা বাঁশ হঠাৎ ভেঙে পড়ে যায়। এভাবে দুনিয়ায় সে এসি ঘরে শুয়ে থেকেও হিংসার আগুনে জ্বলে-পুড়ে মরে। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘তোমরা পরস্পরে বিদ্বেষ কোরো না, হিংসা কোরো না, ষড়যন্ত্র কোরো না ও সম্পর্ক ছিন্ন কোরো না। তোমরা পরস্পরে আল্লাহর বান্দা হিসাবে ভাই ভাই হয়ে যাও।’ (বুখারি, হাদিস : ৬০৭৬)
৮. স্বাস্থ্য ও বিশ্রামকে অবহেলা করা : শরীর ও মনের সুস্থতা ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি সফলতা সম্ভব নয়। তাই সফল মানুষ পর্যাপ্ত বিশ্রাম, স্বাস্থ্য ও মানসিক প্রশান্তির যত্ন নেন। সুস্বাস্থ্যের জন্য শরীরচর্চার বিকল্প নেই। যাঁরা কর্মব্যস্ততায় শরীরচর্চার সুযোগ পান না, চিকিৎসকরা তাঁদের প্রতিদিন নিয়ম করে দ্রুত হাঁটার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। শরীরচর্চার অংশ হিসেবে নবীজি (সা.) সাহাবাদের সঙ্গে কুস্তি লড়েছেন। মাঝেমধ্যে দৌড় প্রতিযোগিতা করেছেন। প্রিয়তমা স্ত্রী আয়েশা (রা.)-এর সঙ্গেও এক রাতে দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন। তিনি সব সময় স্বতঃস্ফূর্ততার সঙ্গে দ্রুতগতিতে হাঁটতেন। আবু হুরায়রা (রা.) বলেছেন, ‘আমি নবীজি (সা.)-এর চেয়ে দ্রুতগতিতে কাউকে হাঁটতে দেখিনি।’ (তিরমিজি, হাদিস : ৩৬৪৮)
৯. অস্পষ্ট লক্ষ্য ও দুর্বল সিদ্ধান্ত : সফল মানুষের লক্ষ্য পরিষ্কার ও নির্দিষ্ট থাকে। তাঁরা জানেন তাঁরা কী অর্জন করতে চান। ফলে তাঁরা সহজেই নিজেদের অগ্রগতি মূল্যায়ন করতে পারেন। তাঁদের সিদ্ধান্ত দৃঢ় হয় এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর তা বাস্তবায়নে দেরি করেন না। এভাবেই তাঁদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পায়।
১০. বাধা এলে ভয় পেয়ে থেমে যাওয়া : জীবনের পথে বাধা আসবেই; কিন্তু সফল মানুষ প্রয়োজনে পরিকল্পনা ও কৌশল পরিবর্তন করতে দ্বিধা করেন না। তাঁদের লক্ষ্য অপরিবর্তিত থাকে, তবে লক্ষ্য অর্জনের পদ্ধতি পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিবর্তন করতে তাঁরা প্রস্তুত থাকেন। পৃথিবীতে যত মানুষ স্মরণীয়-বরণীয় হয়েছেন, তাঁরা প্রত্যেকেই নিজ নিজ কর্মে কঠোর পরিশ্রম করেছেন। সফলতা অর্জনের জন্য নিরলসভাবে চেষ্টা-সাধনা চালিয়ে গেছেন। একসময় মহান আল্লাহ তাঁদের চেষ্টার সফল উপহার দিয়েছেন। মানুষ কোনো বিষয়ে দৃঢ়তার সঙ্গে সাধনা করলে মহান আল্লাহ তাদের তা দিয়ে দেন। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর এই যে মানুষ তা-ই পায়, যা সে চেষ্টা করে।’ (সুরা : নাজম, আয়াত : ৩৯)
আল্লাহ সবাইকে কবুল করুন। আমিন।