তবে এই রূপান্তরিত লোকেরা তিন দিনের বেশি জীবিত ছিল না। তারা কোনো খাবার গ্রহণ করেনি এবং তাদের কোনো বংশধরও হয়নি। তিন দিনের মধ্যেই সকলেই ধ্বংস হয়ে যায়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘অতঃপর আমি এ ঘটনাকে তাদের সমসাময়িক ও পরবর্তীদের জন্য দৃষ্টান্ত এবং মুত্তাকিদের জন্য উপদেশ বানিয়েছি।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ৬৬)
আল্লাহ তাআলা তাদের এই কপটতা ও চালাকি ভালোভাবেই জানতেন। কারণ আল্লাহর বিধানকে ফাঁকি দেওয়া যায় না। মানুষ দুনিয়ার মানুষকে ধোঁকা দিতে পারলেও মহান রবকে ধোঁকা দিতে পারে না। যেমন আল্লাহ বলেন, ‘আপনি তাদের সেই জনপদের কথা জিজ্ঞাসা করুন, যা ছিল সমুদ্রতীরে অবস্থিত; যখন তারা শনিবারের ব্যাপারে সীমালঙ্ঘন করত…।’ (সুরা : আরাফ, আয়াত : ১৬৩)
তবে সব বনি ইসরাইল কিন্তু অপরাধে জড়িত ছিল না। তাদের মধ্যে কিছু নেককার মানুষ ছিল, যারা অন্যদের নিষেধ করত এবং আল্লাহর ভয় স্মরণ করিয়ে দিত। তারা বলত, আল্লাহর অবাধ্যতা থেকে বিরত হও, নতুবা ভয়াবহ শাস্তি নেমে আসবে। এতে বোঝা যায়, সমাজে অন্যায় দেখেও চুপ থাকা উচিত নয়। সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করা মুমিনের দায়িত্ব। অবশেষে যখন তারা সীমালঙ্ঘনে অটল থাকে এবং তওবা করছিল না, তখন আল্লাহ তাআলার গজব নেমে আসে। আল্লাহ তাদের একাংশকে লাঞ্ছিত বানরে রূপান্তরিত করেন। মহান আল্লাহ বলেন, ‘অতঃপর যখন তারা নিষিদ্ধ কাজের ব্যাপারে ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করল, তখন আমি তাদের বললাম, ‘তোমরা লাঞ্ছিত বানরে পরিণত হও।’ (সুরা : আরাফ, আয়াত : ১৬৬)
আজও অনেক মানুষ বিভিন্ন কৌশলে হারামকে হালাল করার চেষ্টা করে। কেউ সুদকে অন্য নামে চালায়, কেউ প্রতারণাকে ব্যবসায়িক বুদ্ধি বলে চালিয়ে দেয়, কেউ শরিয়তের বিধানকে নিজের স্বার্থ অনুযায়ী ব্যাখ্যা করে। কিন্তু মনে রাখতে হবে, যে আল্লাহ বনি ইসরাইলের গোপন কৌশল জানতেন, তিনি আজকের মানুষের অন্তরের খবরও জানেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তারা আল্লাহ ও মুমিনদেরকে ধোঁকা দিতে চায়, অথচ তারা নিজেদেরকেই ধোঁকা দেয়; কিন্তু তারা তা বুঝে না।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ৯)
অতএব, শনিবারের সীমালঙ্ঘনের ঘটনা প্রতিটি যুগের মানুষের জন্য জীবন্ত সতর্কবার্তা। আল্লাহর আদেশকে অবহেলা করা, দ্বীনের বিধান নিয়ে চালাকি করা এবং দুনিয়ার স্বার্থকে সত্যের ওপর প্রাধান্য দেওয়া শেষ পর্যন্ত মানুষকে অপমান ও ধ্বংসের দিকেই নিয়ে যায়। তাই একজন মুমিনের কর্তব্য হলো, আল্লাহর প্রতিটি হুকুম আন্তরিকতার সঙ্গে মেনে চলা, হারাম থেকে বেঁচে থাকা এবং কপটতা ও প্রতারণা থেকে দূরে থাকা। কারণ আল্লাহকে কখনো ধোঁকা দেওয়া যায় না। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে তাঁর আদেশ মান্য করার তাওফিক দান করুন। আমিন।