এ ক্ষেত্রে জুমার দিনে বা জুমাবারে কেউ মারা গেলে বিষয়টিকে খুব ভালো হিসেবে মনে করা হয়। কেউ কেউ বলেন— পবিত্র এই দিনে মারা গেলে কবরের আযাব মাফ হয়। আবার কেউ কেউ এমনও বলেন— জুমাবারে মারা গেলে জান্নাত লাভ সহজ হয়। কোরআন ও হাদিসের আলোকে প্রচলিত এমন নানা কথার ভিত্তি কতটুকু?
কবরের ফিতনা থেকে রক্ষা
আবদুল্লাহ ইবনু আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন— যে কোনো মুসলিম ব্যক্তি জুমাবারে বা জুমার রাতে ইন্তেকাল করবে, তাকে আল্লাহ তা’আলা কবরের ফিতনা (কবরের আযাব ও পরীক্ষা বা মুনকার-নাকিরের সওয়াল-জবাব) থেকে হেফাজত করবেন। (মেশকাত, হাদিস: ১৩৬৭; সুনান আত তিরমিজি, হাদিস: ১০৭৪)
এই হাদিস দ্বারা জুমাবারে মারা গেলে কবরের আযাব থেকে রক্ষা পাওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হয়। তবে জুমাবারে বা জুমার দিনে কেউ মারা গেলে জান্নাত পাওয়া যাবে কিংবা জান্নাত লাভ সহজ হবে— সরাসরি এমন কোনো বিষয় কোরআন ও হাদিসে আসেনি।
এ বিষয়ে জনপ্রিয় ইসলামিক স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহসহ বেশিরভাগ আলেমদের মত, জুমাবারে মারা গেলে মুমিন বান্দা যে কবরের ফিতনা থেকে রক্ষা পাবেন, তা হাদিস দাঁড়াই স্বীকৃত। তবে এদিন জান্নাতে প্রবেশ করবে সরাসরি এমনটা ভেবে নেয়া ঠিক নয়। যদিও বিভিন্ন হাদিস অনুযায়ী এমনটা আশা করা যায়— মৃত্যুর পর যার পরকালের প্রথম ধাপ কবরের হিসাব-নিকেশ সহজ হবে, তার জন্য পরবর্তী ধাপগুলোও সহজ হবে।