কর্মক্ষেত্রে, পরিবারে, সমাজে কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে—কোনো সিদ্ধান্ত, বক্তব্য বা কাজ নিয়ে কেউ না কেউ মন্তব্য করবেই। কখনো সেই সমালোচনা হয় সংশোধনের দরজা, আবার কখনো তা হয় অহেতুক আক্রমণ। কিন্তু সমালোচনার ধরন যেমনই হোক, তার জবাব দেওয়ার ধরন একজন মানুষের ব্যক্তিত্ব, ধৈর্য ও নৈতিকতার পরিচয় বহন করে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তুমি উপদেশ দিতে থাকো, যদি উপদেশ উপকারে আসে।
কেউ আপনাকে অপমান করলেই তাকে অপমান করা ইসলামের আদর্শ নয়। বরং পরিস্থিতি অনুযায়ী উত্তম ভাষায় উত্তর দেওয়া কিংবা নীরব থাকা অধিক মর্যাদাপূর্ণ। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর যখন অজ্ঞ লোকেরা তাদের সঙ্গে কথা বলে, তখন তারা বলে, ‘সালাম’।’ (সুরা :ফুরকান, আয়াত : ৬৩)এর অর্থ এই নয় যে অন্যায় দেখেও সবসময় কোনো কথা বলা যাবে না; বরং অশোভন ও উত্তেজনাপূর্ণ আচরণের জবাবে নিজেকে একই স্তরে নামিয়ে না আনার শিক্ষা এখানে রয়েছে। তাই কোরআন সমালোচনা ও বিরোধের ক্ষেত্রে আরও চমৎকার একটি নীতি দিয়েছে, ‘ভালো ও মন্দ সমান নয়। তুমি মন্দকে এমন পন্থায় প্রতিহত করো, যা উত্তম।’ (সুরা : ফুসসিলাত, আয়াত : ৩৪)
সমালোচনার সময় অনেকে ব্যক্তিগত আক্রমণ, বিদ্রূপ কিংবা অপমানজনক উপাধি ব্যবহার করে। ইসলাম এ ধরনের আচরণ নিষেধ করেছে। আল্লাহ বলেন, ‘কোনো সম্প্রদায় যেন অন্য সম্প্রদায়কে উপহাস না করে; হতে পারে তারা তাদের চেয়ে উত্তম। … আর তোমরা একে অপরকে মন্দ উপাধিতে ডেকো না।’ (সুরা : হুজুরাত, আয়াত : ১১)
তাই কেউ আপনাকে অপমান করলেও পাল্টা অপমান করার মাধ্যমে নিজের মর্যাদা নষ্ট করা উচিত নয়।
কখনো সমালোচনার মধ্যে মিথ্যা, অতিরঞ্জন বা ভুল তথ্য থাকতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে আবেগী আক্রমণের পরিবর্তে শান্তভাবে সত্যটি তুলে ধরা উচিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই সত্য নেকির দিকে নিয়ে যায় এবং নেকি জান্নাতের দিকে নিয়ে যায়।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৬০৭)
অতএব কেউ মিথ্যা অভিযোগ করলে পাল্টা মিথ্যা বলা যাবে না। বরং প্রমাণ, যুক্তি ও সত্য তথ্যের মাধ্যমে বিষয়টি পরিষ্কার করা উচিত।
সমালোচনার জবাবে করণীয়
প্রথমত, সমালোচনার মধ্যে সত্য থাকলে তা গ্রহণ করুন।
দ্বিতীয়ত, ভুল হলে বিনয়ের সঙ্গে সংশোধন করুন।
তৃতীয়ত, মিথ্যা হলে শান্তভাবে সত্য তুলে ধরুন।
চতুর্থত, কটু কথার জবাবে কটু কথা বলবেন না।
পঞ্চমত, রাগের মুহূর্তে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া এড়িয়ে চলুন।
ষষ্ঠত, ব্যক্তিগত অপমান ও অপ্রয়োজনীয় বিতর্কে জড়িয়ে পড়বেন না।
সপ্তমত, প্রয়োজন হলে নীরব থাকুন এবং প্রয়োজন হলে দৃঢ় কিন্তু ভদ্র ভাষায় উত্তর দিন।
অষ্টমত, নিজের মর্যাদা রক্ষা করুন, কিন্তু অহংকারে সত্যকে প্রত্যাখ্যান করবেন না।
অতএব, সমালোচনা যখন আসবে, আগে থামুন, শুনুন, যাচাই করুন; তারপর প্রয়োজন হলে সুন্দরভাবে উত্তর দিন। কারণ একটি সুন্দর উত্তর একটি বিতর্কের সমাপ্তি ঘটায়।