৩২৬৬ নম্বর প্রস্তাবে নির্দিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ও শ্রমিক-সংকট রয়েছে এমন খাতে কর্মরত বিদেশিদের জন্য সর্বোচ্চ চার বছর মেয়াদি আবাসন কার্ড চালুর কথা বলা হয়েছে। প্রস্তাবটি বর্তমান আইনের একটি বিশেষ ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে চায়, যার আওতায় নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করা অনিয়মিত শ্রমিকদের পরিস্থিতি বিবেচনা করে বৈধতা দেওয়া হয়।
বর্তমান ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট পেশা ও অঞ্চলের শ্রমিক-সংকটের তালিকাভুক্ত খাতে কাজ করা বিদেশিদের জন্য একটি বিশেষ পথ রয়েছে। সাধারণভাবে এ পথে আবেদন করতে ফ্রান্সে অন্তত তিন বছর ধারাবাহিকভাবে বসবাস এবং আগের ২৪ মাসের মধ্যে অন্তত ১২ মাস তালিকাভুক্ত পেশায় বেতনভুক্ত কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হয়।
৩২৫৩ নম্বর প্রস্তাবে আরও সরাসরি অধিকারভিত্তিক ব্যবস্থা প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কোনো বিদেশি নাগরিক ফ্রান্সে তার বসবাসের অবস্থা যা-ই হোক, আবেদনের আগের ২৪ মাসের মধ্যে অন্তত ছয় মাস পেশাগত কাজ করেছেন—এমন প্রমাণ দিতে পারলে তাকে বেতনভুক্ত কর্মীর আবাসন কার্ড দেওয়ার বিধান করা হবে।
এ ক্ষেত্রে কাজের প্রমাণ কেবল বেতন স্লিপের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; প্রস্তাবের ভাষায় বিভিন্ন উপায়ে পেশাগত কাজের প্রমাণ দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। ফলে প্রস্তাবটি কার্যকর হলে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করা শ্রমিকদের জন্য বর্তমান বিশেষ ব্যবস্থার তুলনায় কম সময়ের কাজের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে আবাসন কার্ড পাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তবে এ প্রস্তাবকেও কার্যকর আইন হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। সংসদে আলোচনা, সম্ভাব্য সংশোধন এবং আইন প্রণয়নের পরবর্তী ধাপগুলো শেষ না হওয়া পর্যন্ত এর শর্তের ভিত্তিতে আবেদন করার অধিকার তৈরি হবে না।
বর্তমান ব্যবস্থায় আবেদনকারীদের করণীয়
আইনজীবী আকাশ হেলাল কালের কণ্ঠকে বলেন, নতুন প্রস্তাবগুলোর অপেক্ষায় থেকে বর্তমান আইনের আওতায় যোগ্য আবেদনকারীদের করণীয় উপেক্ষা করা ঠিক হবে না। যারা এখন বিদ্যমান বিশেষ ব্যবস্থার শর্ত পূরণ করছেন, তাদের আবেদন করার আগে নিজেদের বসবাসের সময়কাল, কাজের প্রমাণ, পেশা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করা উচিত। ব্যক্তিগত পরিস্থিতি অনুযায়ী আইনগত পরামর্শ নিয়ে আবেদন করাই নিরাপদ।
বর্তমান শ্রমিক-সংকটভিত্তিক বিশেষ ব্যবস্থার মেয়াদ ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারিত। ফলে যোগ্য ব্যক্তিদের জন্য সময় গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রিফেকচারে সাক্ষাৎ পাওয়ার বিলম্ব বা প্রশাসনিক জটিলতার কারণে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আবেদন নিষ্পত্তি হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। তাই কেবল নতুন প্রস্তাবের ওপর নির্ভর না করে বর্তমান নিয়মের আওতায় নিজের যোগ্যতা যাচাই করা জরুরি।
এখানে একটি বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন, ৩১ ডিসেম্বরের সময়সীমাটি নির্দিষ্ট শ্রমিক-সংকটভিত্তিক বিশেষ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য; ফ্রান্সে কাজের ভিত্তিতে বৈধতা পাওয়ার সব ধরনের পথ ওই দিনেই শেষ হয়ে যাবে—এমন নয়। অন্যান্য ব্যবস্থার জন্য আলাদা শর্ত থাকতে পারে।
কবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে?
দুটি প্রস্তাবই ফরাসি জাতীয় সংসদে জমা পড়েছে এবং আইনবিষয়ক কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। তবে সংসদে এগুলো নিয়ে আলোচনা বা ভোটাভুটির নির্দিষ্ট তারিখ নিশ্চিত নয়। প্রস্তাবের পরবর্তী অগ্রগতি নির্ভর করবে সংসদীয় কার্যক্রম, আলোচনার সময়সূচি এবং প্রয়োজন হলে সংশোধনীর ওপর।
ফরাসী আইনজীবী আকাশ হেলালের মতে, প্রস্তাবগুলো কখন চূড়ান্ত হবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। তাই নতুন আইনের অপেক্ষায় থেকে আবেদনকারীদের বর্তমান সুযোগ হারানোর ঝুঁকি নেওয়া উচিত হবে না। বরং নিজ নিজ পরিস্থিতি অনুযায়ী বর্তমান আইন, প্রয়োজনীয় নথি এবং আবেদনের সময়সীমা সম্পর্কে সচেতন থাকাই হবে সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ।
সব মিলিয়ে, ফ্রান্সের সংসদে উত্থাপিত দুটি প্রস্তাব অনিয়মিত শ্রমিকদের বৈধতা পাওয়ার ক্ষেত্রে সম্ভাব্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। একটি প্রস্তাবে নির্দিষ্ট খাতে সর্বোচ্চ চার বছর মেয়াদি আবাসন কার্ডের কথা বলা হয়েছে, অন্যটিতে গত ২৪ মাসের মধ্যে ছয় মাস কাজের প্রমাণের ভিত্তিতে কার্ড পাওয়ার অধিকার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ রয়েছে। তবে প্রস্তাবগুলো আইন না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান বিধিই কার্যকর থাকবে।