কেন্দুয়া (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি:নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় মসজিদের ভেতরে নামাজ শেষে দোয়া করার সময় মেহেদী হাসান নামে এক যুবককে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার মামলায় অলি মিয়াকে দোষী সাব্যস্ত করে ১২ বছরের আটকাদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে বিভিন্ন ধারায় তাকে মোট ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তবে সব আটকাদেশ একই সঙ্গে কার্যকর হবে। রায় ঘোষণার সময় আসামি পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে আটকাদেশ পরোয়ানাসহ ওয়ারেন্ট ইস্যুর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
দণ্ডপ্রাপ্ত অলি মিয়া হলেন উপজেলার দিঘলকোর্ষা (বর্তমানে -আরামবাগ) গ্রামের বাসিন্দা আইনুল হকের ছেলে ।মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালের ২৮ ডিসেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৫টার দিকে কেন্দুয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিস সংলগ্ন জামে মসজিদে এ ঘটনা ঘটে। নামাজ শেষে মেহেদী হাসান দোয়া করার সময় পূর্ববিরোধের জের ধরে অলি মিয়া ধারালো চাপাতি নিয়ে মসজিদের ভেতরে প্রবেশ করে পেছন থেকে তার বাম ঘাড়ে কোপ দেন বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়। পরে তার ঠোঁটের ওপরিভাগ ও ডান কাঁধেও কোপ দেওয়া হয়। এতে মেহেদীর চারটি দাঁতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়।
হামলার পর মসজিদের মুসল্লিরা অলি মিয়াকে চাপাতিসহ আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। আহত মেহেদী হাসানকে প্রথমে কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় আহতের বাবা আব্দুল মান্নান বাদী হয়ে ২০১৪ সালের ২৯ ডিসেম্বর কেন্দুয়া থানায় মামলা করেন।
মামলাটি কেন্দুয়া থানার মামলা নং-১৭ (১২) ২০১৪। এতে দণ্ডবিধির ২৯৬, ৩০৭, ৩২৬ ও ৩২৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়। তদন্ত শেষে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ২০১৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
পরবর্তীতে মামলাটি নেত্রকোণার শিশু আদালতে বিচারাধীন থাকে। আদালতের রায়ের নথি অনুযায়ী, আইনের সঙ্গে সংঘাতে জড়িত শিশু অলি মিয়ার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০৭, ৩২৬ ও ৩২৪ ধারার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়।
রায়ে দণ্ডবিধির ৩০৭ ধারায় অলি মিয়াকে ৭ বছরের আটকাদেশ ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের আটকাদেশ; ৩২৬ ধারায় ৩ বছরের আটকাদেশ ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের আটকাদেশ এবং ৩২৪ ধারায় ২ বছরের আটকাদেশ দেওয়া হয়। তবে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, সব আটকাদেশ একই সঙ্গে চলবে।
রায়ের নথিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, রায় ঘোষণার সময় অলি মিয়া পলাতক ছিলেন। তার বিরুদ্ধে আটকাদেশ পরোয়ানাসহ ওয়ারেন্ট ইস্যুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গ্রেপ্তার অথবা স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণের পর তাকে জেলা কারাগারে পাঠিয়ে আটকাদেশ কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে। পূর্বে হাজতবাস করে থাকলে তা আটকাদেশের মেয়াদ থেকে বাদ যাবে।
মামলার বাদী আব্দুল মান্নান আসামীকে দ্রুত গ্রেফতার ও ন্যায় বিচারেরর জোরালো দাবি জানান। তিনি আরো বলেন, আসামির বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট ইস্যু জারি করা হলেও পুলিশ এখনো গ্রেফতার করতে পারে নি । এ ক্ষেত্রে পুলিশের আরো সক্রিয় ভূমিকার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
এ বিষয়ে কেন্দুয়া থানার এসআই ও সেকেন্ড অফিসার মো. রেজাউল করিম মুঠোফোনে জানান, আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি আছে। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।