দিনের বেশিরভাগ সময় বসে কাটালে হাঁটুকে সহায়তা করা পেশিগুলো দুর্বল হয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে উরু ও নিতম্বের পেশি দুর্বল হলে হাঁটুর ওপর চাপ বাড়তে পারে। এ ছাড়া দীর্ঘ সময় হাঁটু ভাঁজ করে বসে থাকার পর উঠে দাঁড়ালে হাঁটুতে শক্তভাব বা অস্বস্তি অনুভূত হতে পারে।তাই একটানা কয়েক ঘণ্টা বসে না থেকে নিয়মিত উঠে একটু হাঁটাচলা করা বা পা নড়াচড়া করা ভালো।
সিঁড়ি ওঠানামা ভালো শারীরিক ব্যায়াম হতে পারে। তবে শরীরের সক্ষমতার তুলনায় অতিরিক্ত সিঁড়ি ওঠা, বিশেষ করে পর্যাপ্ত শক্তি ও প্রস্তুতি না থাকলে, হাঁটুর ওপর চাপ বাড়াতে পারে। যাদের আগে থেকেই হাঁটুর ব্যথা বা পায়ের পেশিতে দুর্বলতা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন সিঁড়ি ব্যবহার করতে হলে ধীরে ধীরে অভ্যাস তৈরি করা এবং ওঠানামার সময় সঠিক ভঙ্গি বজায় রাখা জরুরি।
হঠাৎ করেই দৌড়ানো, লাফানো, স্কোয়াট কিংবা ভারী ব্যায়াম শুরু করলে পেশি ও জয়েন্টের ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপ পড়তে পারে। ব্যায়ামের আগে কয়েক মিনিট হালকা নড়াচড়া করলে শরীর ধীরে ধীরে ব্যায়ামের জন্য প্রস্তুত হয়। বিশেষ করে কঠিন ব্যায়াম করার আগে ওয়ার্মআপ করা এবং ধীরে ধীরে ব্যায়ামের মাত্রা বাড়ানো উচিত।
ব্যায়াম করতে গিয়ে হাঁটুতে ব্যথা হলে অনেকেই সেটিকে স্বাভাবিক ভেবে চালিয়ে যান। কিন্তু ব্যথা যদি বারবার হয়, বাড়তে থাকে বা দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে সেটিকে অবহেলা করা ঠিক নয়। যে ব্যায়াম বা কাজের কারণে বারবার ব্যথা হচ্ছে, সেটির মাত্রা কমানো বা সাময়িকভাবে পরিবর্তন করা যেতে পারে। ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
হাঁটা বা দৌড়ানোর সময় পা ও হাঁটু একসঙ্গে কাজ করে। ভুল মাপের বা পর্যাপ্ত সাপোর্ট না দেয়া জুতা পায়ের মাটিতে পড়ার ধরন পরিবর্তন করতে পারে। এর প্রভাব পায়ের ওপর দিয়ে হাঁটু পর্যন্ত পড়তে পারে। তাই দীর্ঘ সময় হাঁটা বা ব্যায়ামের ক্ষেত্রে আরামদায়ক, সঠিক মাপের এবং কাজের উপযোগী জুতা বেছে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। সবার জন্য বিশেষ ধরনের জুতা প্রয়োজন এমন নয়।
অতিরিক্ত ব্যায়াম যেমন সমস্যা তৈরি করতে পারে, তেমনি একেবারেই শারীরিকভাবে সক্রিয় না থাকাও হাঁটুর জন্য ভালো নয়। উরু, নিতম্ব ও কোমরের আশপাশের শক্তিশালী পেশি হাঁটুকে ভালোভাবে সাপোর্ট দিতে সাহায্য করে। তাই নিয়মিত হাঁটা, সাইক্লিং বা সাঁতারের মতো কম চাপের ব্যায়াম শরীরের নড়াচড়া ও পেশির শক্তি ধরে রাখতে সহায়ক হতে পারে। তবে আগে থেকেই হাঁটুর সমস্যা থাকলে কোন ধরনের ব্যায়াম এবং কতটা করা নিরাপদ, তা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে ঠিক করা ভালো।
শরীরের অতিরিক্ত ওজন থাকলে প্রতিদিনের হাঁটা, ওঠাবসা বা সিঁড়ি ভাঙার সময় হাঁটুর ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। দীর্ঘমেয়াদে এটি হাঁটুর অস্বস্তি এবং অস্টিওআর্থ্রাইটিসের মতো সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে দ্রুত ওজন কমানোর কঠোর ডায়েটের বদলে দীর্ঘমেয়াদে অনুসরণ করা যায় এমন স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রমের দিকে নজর দেওয়া জরুরি।
হাঁটুর সমস্যা মানেই বয়সের কারণে হয়েছে এমনটা সবসময় নয়। প্রতিদিনের বসা, হাঁটা, ব্যায়াম এবং শরীরের ওজন সবকিছুই হাঁটুর ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এসব অভ্যাস থাকলেই যে নিশ্চিতভাবে হাঁটুর ক্ষতি হবে, তা নয়। নিয়মিত নড়াচড়া করা, সঠিক কৌশলে ব্যায়াম করা, ব্যথাকে অবহেলা না করা এবং শরীরের সক্ষমতা অনুযায়ী কাজ করাই হতে পারে হাঁটুর সুস্থতা ধরে রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।