নতুন নিয়ম নিয়ে উদ্বিগ্নদের মধ্যে রয়েছেন দীর্ঘদিন ধরে জাপানে বসবাস করা বিদেশিরাও।তাদের একজন বাংলাদেশের নাগরিক আবদুল। প্রায় আট বছর ধরে জাপানে কাজ করছেন তিনি। উত্তর টোকিওতে স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করা এই প্রযুক্তি প্রকৌশলী স্থায়ী বসবাস ও জাপানের নাগরিকত্ব—দুইটির জন্যই আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
জাপানে জন্মহার কমে যাওয়ায় দেশটির কর্মক্ষম জনসংখ্যা কমছে। বিভিন্ন খাতে শ্রমিকের ঘাটতি পূরণে বিদেশি কর্মীদের ওপরও নির্ভরতা বাড়ছে। তবে একই সময়ে বিদেশিদের দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের ক্ষেত্রে নিয়ম কঠোর করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
মেইকাই বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক রিসা হাগিওয়ারা বলেন, জাপানের শ্রমবাজারে বিদেশি কর্মীদের প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের শর্ত কঠিন হয়ে গেলে কাজের জন্য জাপানকে বেছে নেওয়ার আগ্রহ কমতে পারে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ জাপানে বিদেশি বাসিন্দার সংখ্যা বেড়ে রেকর্ড ৪১ লাখ ২০ হাজারে দাঁড়িয়েছে, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩ শতাংশ।
অন্যদিকে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারির মধ্যে জাপানি নাগরিকের সংখ্যা ৯ লাখের বেশি কমেছে। ফলে জনসংখ্যা সংকট ও শ্রমিকের ঘাটতির মধ্যে বিদেশিদের নিয়ে জাপানের নীতি এখন গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
এর পাশাপাশি দেশটিতে বিদেশিদের নিয়ে জনমতেও পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব সোশ্যাল সায়েন্সের সাম্প্রতিক এক জরিপে ৫৬ দশমিক ৩ শতাংশ জাপানি নাগরিক জানিয়েছেন, তারা আরও বিদেশি গ্রহণের বিরোধী। ২০২৪ সালে এই হার ছিল ৩৫ দশমিক ৬ শতাংশ।
দীর্ঘদিন জাপানে থাকা বিদেশিদের কেউ কেউ সাম্প্রতিক সময়ে অনলাইনে ও সামাজিক জীবনে বিদেশিদের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব বাড়ার কথা জানিয়েছেন।
সব মিলিয়ে, একদিকে শ্রমিক সংকট মোকাবেলায় জাপানের বিদেশি কর্মী প্রয়োজন, অন্যদিকে স্থায়ীভাবে বসবাসের ক্ষেত্রে বাড়ছে শর্ত ও কড়াকড়ি। ফলে জাপানে থাকা বিদেশিদের জন্য দেশটিতে দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।