ভিটামিন বি১২ শরীরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পুষ্টি উপাদান। এটি স্বাস্থ্যকর লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে এবং স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
চুলের ফলিকল বা গোড়ায় পর্যাপ্ত অক্সিজেন ও পুষ্টি পৌঁছানো চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ভিটামিন বি১২ লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে ভূমিকা রাখে। ফলে বি১২-এর ঘাটতি হলে লোহিত রক্তকণিকা তৈরির প্রক্রিয়ায় সমস্যা হতে পারে এবং পরোক্ষভাবে চুলের স্বাস্থ্যে প্রভাব পড়তে পারে। ডা. কুনাল সুদের মতে, বি১২-এর কম মাত্রার সঙ্গে অল্প বয়সে চুল পেকে যাওয়া এবং কিছু ক্ষেত্রে চুলের পরিবর্তনের সম্পর্ক দেখা গেছে। চুল পাকা মানেই যে বি১২-এর ঘাটতি এমন নয়। বেশিরভাগ মানুষের চুল পাকার পেছনে জেনেটিক বা বয়সজনিত কারণই প্রধান ভূমিকা পালন করে। তাই শরীরে বি১২-এর মাত্রা স্বাভাবিক থাকার পরও অতিরিক্ত বি১২ গ্রহণ করলে সাদা চুল আবার কালো হয়ে যাবে এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই।
গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ
চুল পড়া বা চুল পেকে যাওয়াকে একা ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতির লক্ষণ হিসেবে দেখা ঠিক নয়। বরং চুলের সমস্যার সঙ্গে শরীরে অন্য কিছু উপসর্গ দেখা দিচ্ছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। ডা. সুদ বিশেষভাবে কয়েকটি উপসর্গের দিকে নজর দিতে বলেছেন। যেমন অস্বাভাবিক ক্লান্তি, দুর্বলতা, হাত-পায়ে ঝিনঝিনি বা অবশভাব। চুল পড়ার পাশাপাশি এসব উপসর্গ থাকলে বিষয়টি শুধু চুলের সমস্যা হিসেবে না দেখে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া ভালো।
চুল পড়তে শুরু করলেই নিজের ইচ্ছায় ভিটামিন বি১২ বা অন্য কোনো সাপ্লিমেন্ট শুরু করা উচিত নয়। কারণ চুল পড়ার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে জেনেটিক কারণ, হরমোনের পরিবর্তন, আয়রনের ঘাটতি, থাইরয়েডের সমস্যা, মানসিক চাপ, অসুস্থতা, দ্রুত ওজন কমে যাওয়া কিংবা খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনও এর সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। তাই প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে রক্ত পরীক্ষা করে শরীরে বি১২-এর মাত্রা যাচাই করা যেতে পারে।