কোনো মানুষই পরিপূর্ণ নয়। যদি আমরা আশা করি, একজন স্ত্রী চরিত্র, স্বভাব, ধর্মীয় অনুশীলন, গৃহস্থালি—সব দিক থেকেই নিখুঁত হবেন, তবে আমরা প্রায় অসম্ভব কিছু প্রত্যাশা করছি। তাই জীবনসঙ্গীর কিছু অপছন্দনীয় দিক থাকবে—এটি মেনে নেওয়া উচিত।হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কোনো মুমিন পুরুষ যেন কোনো মুমিন নারীকে সম্পূর্ণ অপছন্দ না করে। যদি তার একটি স্বভাব অপছন্দ হয়, তবে অন্য একটি স্বভাব অবশ্যই তার ভালো লাগবে।’ (মুসলিম, হাদিস : ১৪৬৯)
দাম্পত্য কলহের অন্যতম কারণ হলো স্বামী স্ত্রীর মধ্যে শুধু ত্রুটিই খুঁজতে থাকেন এবং তাঁকে নিজের কল্পিত আদর্শ অনুযায়ী পরিবর্তন করতে চান। কিন্তু একজন নারী অন্য পরিবেশে, অন্য পরিবারে বড় হয়েছেন।তাঁর নিজস্ব শিক্ষা, সংস্কৃতি, অভ্যাস ও অভিজ্ঞতা আছে। তাই তাঁকে সম্পূর্ণ বদলে ফেলার চেষ্টা বাস্তবসম্মত নয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যদি তুমি তাকে পুরোপুরি সোজা করতে চাও, তবে তাকে ভেঙে ফেলবে; আর তার ভেঙে যাওয়া হলো তালাক।’ (বুখারি, হাদিস : ৩৩৩১)
স্বামীকে বুঝতে হবে যে নারীর জীবনে কিছু সময় আসে—যেমন : মাসিকের সময়, গর্ভাবস্থার শুরুতে, সন্তান লালন-পালনের চাপ, অসুস্থতা, পারিবারিক দুশ্চিন্তা, যা তাঁর মানসিক অবস্থাকে প্রভাবিত করতে পারে। এসব পরিস্থিতিতে ধৈর্য ও সহানুভূতি দেখানো উচিত।
৫. ব্যক্তিগত পরিসরকে সম্মান করুন
বিয়ের পর অনেক বিষয় স্বামী-স্ত্রী একে অপরের সঙ্গে ভাগাভাগি করলেও প্রত্যেক মানুষের কিছু ব্যক্তিগত বিষয় থাকে। যেমন—ব্যক্তিগত অনুভূতি, কিছু পারিবারিক বিষয়, আর্থিক তথ্য, আত্মীয় বা বন্ধুদের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক। এসব বিষয়ে অযথা জোর করে জানার চেষ্টা করলে অশান্তি সৃষ্টি হতে পারে। কোনো বিষয় ব্যক্তিগত রাখতে চাওয়া মানেই তা সন্দেহজনক—এমন ধারণা ঠিক নয়।
৬. নতুন দাম্পত্য জীবনে ধৈর্য ধরুন
বিয়ের প্রথম দিকে অনেক সমস্যা দেখা দিতে পারে। কখনো আত্মীয়-স্বজন বা বন্ধুদের ভুল পরামর্শে পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়। অনেকেই মনে করেন, শুরুতেই ছাড় দিলে ভবিষ্যতে সব সময় তাঁকেই ছাড় দিতে হবে। এটি ভুল ধারণা।
৭. অন্যদের অযথা জড়াবেন না
ছোটখাটো দাম্পত্য সমস্যা পরিবার বা আত্মীয়দের কাছে নিয়ে গেলে অনেক সময় তা আরো জটিল হয়ে যায়। কোরআনেও প্রথমে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যেই সমাধানের চেষ্টা করতে বলা হয়েছে। প্রয়োজন হলে পরে উভয় পরিবারের একজন করে বিচক্ষণ প্রতিনিধি নিয়ে সমাধানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। (সুরা : নিসা, আয়াত : ৩৪-৩৫)
৮. ধৈর্যই সফল দাম্পত্যের মূল চাবিকাঠি
মতবিরোধ প্রতিরোধ ও সমাধানের সবচেয়ে বড় উপায় ধৈর্য। আল্লাহ তাআলা কোরআনে বলেন, ‘সৎ কাজ ও অসৎ কাজ সমান নয়। তুমি মন্দকে উত্তম আচরণের মাধ্যমে প্রতিহত করো। তখন যার সঙ্গে তোমার শত্রুতা ছিল, সে যেন অন্তরঙ্গ বন্ধুর মতো হয়ে যাবে। আর এই গুণ কেবল তারাই লাভ করে, যারা ধৈর্যশীল এবং যারা মহান সৌভাগ্যের অধিকারী।’ (সুরা : ফুসসিলাত, আয়াত : ৩৪-৩৫)