অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, একজন লোক রাস্তা দিয়ে চলতে চলতে তার ভীষণ পিপাসা লাগল। সে কূপে নেমে পানি পান করল। এরপর সে বের হয়ে দেখতে পেল যে একটা কুকুর হাঁপাচ্ছে এবং পিপাসায় কাতর হয়ে মাটি চাটছে। সে ভাবল, কুকুরটারও আমার মতো পিপাসা লেগেছে। সে কূপের মধ্যে নামল এবং নিজের মোজা ভরে পানি নিয়ে মুখ দিয়ে সেটি ধরে ওপরে উঠে এসে কুকুরটিকে পানি পান করাল। আল্লাহ তাআলা তার আমল কবুল করলেন এবং আল্লাহ তার গুনাহ মাফ করে দেন। সাহাবিরা বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! চতুষ্পদ জন্তুর উপকার করলেও কি আমাদের সওয়াব হবে? তিনি বললেন, প্রত্যেক প্রাণীর উপকার করাতেই পুণ্য রয়েছে। (বুখারি, হাদিস : ২৩৬৩)
তবে এর অর্থ এই নয় যে মানুষের নিরাপত্তা বা জনস্বাস্থ্য রক্ষার জন্য ক্ষতিকর প্রাণী নিয়ন্ত্রণের সব ব্যবস্থাই নিষিদ্ধ; বরং প্রাণীর প্রতি অকারণে নিষ্ঠুরতা থেকে বিরত থাকতে হবে।
প্রত্যেক মুমিনের উচিত ইবাদতের পাশাপাশি প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষার জন্য সামর্থ্য অনুযায়ী ভূমিকা রাখা। অপ্রয়োজনে পানি ও বিদ্যুৎ অপচয় না করা, বর্জ্য নির্ধারিত স্থানে ফেলা, গাছ লাগিয়ে তার পরিচর্যা করা, জলাশয় দূষণ থেকে বিরত থাকা এবং পরিবেশের ক্ষতি করে এমন অনিয়মের বিরুদ্ধে আইনসম্মতভাবে সচেতনতা তৈরি করা। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় এসব কাজ মানুষ, প্রাণী ও প্রকৃতির কল্যাণে কাজ করাও এক ধরনের ইবাদত। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে সুবুদ্ধি দান করুন। আমিন।