তবে তার এই খেতাব জয়ের গল্পটাও রূপকথার চেয়ে কম নয়! ২০২৫ সালের মে মাসে হাঁটুর অস্ত্রোপচারের পর প্রায় আট মাস মাঠের বাইরে ছিলেন ম্যানচেস্টার সিটির এই মিডফিল্ডার। সেই ঘোর অন্ধকার কাটিয়ে ফিরে এসেই স্পেনকে এনে দিলেন তাদের ইতিহাসের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ।
পুরস্কার হাতে আবেগে ভেসে রদ্রি বলেন, ‘সময়টা আমার জন্য খুব কঠিন ছিল। আমি শুধু নতুন প্রজন্মকে দেখাতে চাই, পড়ে গেলে কীভাবে আবার ঘুরে দাঁড়াতে হয়। এটাই আমার জীবনের দর্শন। সব দিন ভালো যাবে না, কিন্তু মন থেকে ইতিবাচকতা হারানো যাবে না।’
পুরো আসরে রদ্রির নামের পাশে কোনো গোল বা অ্যাসিস্টের খাতা নেই! তবে গোল-অ্যাসিস্টের পরিসংখ্যান দিয়ে কি আর রদ্রির অবদান মাপা যায়? স্পেনের পজেশন-ভিত্তিক ফুটবলের আসল ইঞ্জিনটাই ছিলেন তিনি। পুরো আসরে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ ৭৫৩টি নিখুঁত পাস (৯৪ শতাংশ নির্ভুলতা) খেলেছেন এই স্প্যানিশ তারকা। ফিফার তথ্যমতে, তিনি রেকর্ড ১,৮০৩টি প্লে-তে সরাসরি যুক্ত ছিলেন! যা অন্য যেকোনো ফুটবলারের চেয়ে প্রায় ২০০টি বেশি!
ফিফা তাদের অফিসিয়াল মূল্যায়নে স্পষ্ট জানিয়েছে, ‘এই মিডফিল্ডার পুরো টুর্নামেন্টে স্পেনের মাঝমাঠের আসল কান্ডারি ছিলেন। আক্রমণ আর রক্ষণের মাঝে তৈরি করেছিলেন ইস্পাতকঠিন সাঁকো। বিশেষ করে মেটলাইফ স্টেডিয়ামের ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ১-০ ব্যবধানের জয়ে তিনিই ছিলেন ব্যবধান গড়ে দেওয়া নায়ক।’
ফাইনালে ১০৫টি পাসের মধ্যে ১০১টিই ছিল নিখুঁত, সঙ্গে ৮০ শতাংশ ডুয়েল জিতেছেন এবং দুটি গোলের দারুণ সুযোগ তৈরি করেছেন। মাঝমাঠে রদ্রির এই অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকার কারণেই পুরো বিশ্বকাপে ৮টি ম্যাচ খেলে মাত্র ১টি গোল হজম করেছে চ্যাম্পিয়ন স্পেন! আর মেসি হারিয়েছে তার টুর্নামেন্ট সেরার সম্ভাব্য শেষ পুরস্কার।