বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে এক ভারতীয় শিক্ষাবিদের মন্তব্য উদ্ধৃত করে প্রকাশিত একটি বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ভারত বা অন্য কোনো রাষ্ট্র বিভিন্ন কৌশল গ্রহণ করতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অতীতের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় বাংলাদেশকে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া উচিত।
প্রতিবেদনে ভারতের সামনে চারটি সম্ভাব্য কৌশলের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেগুলো হলো সীমান্তজুড়ে হিন্দুত্ববাদী নেটওয়ার্ক সক্রিয় রাখা, আফগানিস্তানে তালেবানের সঙ্গে গড়ে ওঠা সম্পর্ক ব্যবহার করে প্রক্সি গোষ্ঠীকে সহায়তা দেওয়া, অতীতে চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলে অনুসৃত কৌশল পুনরায় প্রয়োগ করা এবং বাংলাদেশের জনগণের নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কার্যকর সম্পর্ক গড়ে তুলে আওয়ামী লীগের ওপর নির্ভরতা কমানো।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন কাদেরিয়া বাহিনী ভারতের আসাম থেকে তৎকালীন জিয়াউর রহমান সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র কার্যক্রম পরিচালনা করে। এ সময় ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সহায়তার অভিযোগও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে ভারতের জনতা সরকার ক্ষমতায় এলে সেই সমর্থন বন্ধ হয়ে যায় বলে দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আফগানিস্তানে ভারত দূতাবাস পুনরায় চালু করার পর তালেবানের সঙ্গে ভারতের যোগাযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সম্পর্ক ভবিষ্যতে বিভিন্ন ভূরাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হতে পারে বলে প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
একই সঙ্গে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, কিছু হিন্দুত্ববাদী সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার অভিযোগকে প্রচার বা অতিরঞ্জিত করে আসছে। ভবিষ্যতে এসব বিষয় বাংলাদেশকে চাপে রাখার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রতিবেদনে বাংলাদেশ সরকারের জন্য কয়েকটি সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সন্দেহজনক উগ্রবাদী নেটওয়ার্কের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ, পার্বত্য চট্টগ্রাম, ত্রিপুরা ও মিজোরাম সীমান্তে নজরদারি ও টহল জোরদার, সীমান্তপথে অর্থ ও অস্ত্র পাচার রোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পার্বত্য শান্তি চুক্তির অসম্পূর্ণ বিষয়গুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে স্থানীয় অসন্তোষ কমিয়ে আনা।
তবে প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, এসব সুপারিশ কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় সম্প্রদায় বা গোষ্ঠীকে সন্দেহের চোখে দেখার আহ্বান নয়। বরং সম্ভাব্য প্রক্সি কার্যক্রমের সুযোগ সীমিত করে দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা জোরদার করাই এর মূল উদ্দেশ্য।