সপ্তাহে মাত্র দুই ঘণ্টা ভার উত্তোলন বা শক্তিবর্ধক ব্যায়াম করলে দীর্ঘায়ু লাভের সম্ভাবনা বাড়তে পারে বলে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে। গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা।
হৃদরোগ ও স্ট্রোকজনিত মৃত্যুর ক্ষেত্রেও শক্তিবর্ধক ব্যায়ামের উল্লেখযোগ্য সুফল পাওয়া গেছে। গবেষণা অনুযায়ী, নিয়মিত এ ধরনের ব্যায়াম করা ব্যক্তিদের হৃদরোগ বা স্ট্রোকে মৃত্যুর ঝুঁকি ১৯ শতাংশ কম।
স্নায়বিক রোগেও কমে মৃত্যুঝুঁকি
গবেষকরা আরও জানিয়েছেন, যারা নিয়মিত ওজন উত্তোলন বা রেজিস্ট্যান্স ব্যান্ডের মতো শক্তিবর্ধক ব্যায়াম করেন, তাদের স্নায়বিক রোগে মৃত্যুর ঝুঁকি ২৭ শতাংশ কম।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, অন্যান্য শারীরিক কর্মকাণ্ড, বিশেষ করে অ্যারোবিক ব্যায়ামের প্রভাব বিবেচনায় নেওয়ার পরও শক্তিবর্ধক ব্যায়ামের এই ইতিবাচক ফলাফল বজায় ছিল।
দুই ঘণ্টার বেশি ব্যায়ামে বাড়তি সুফল নয়
গবেষণায় দেখা গেছে, সপ্তাহে দুই ঘণ্টার বেশি শক্তিবর্ধক ব্যায়াম করলেও মৃত্যুঝুঁকি আরও কমে না। অর্থাৎ, স্বাস্থ্যগত সর্বোচ্চ উপকার পেতে অতিরিক্ত সময় ব্যায়াম করার প্রয়োজন নেই; মাঝারি মাত্রার রেজিস্ট্যান্স ট্রেনিংই যথেষ্ট হতে পারে।
ব্রিটিশ জার্নাল অব স্পোর্টস মেডিসিনে প্রকাশিত গবেষণাটিতে স্বাস্থ্যগত সর্বোচ্চ সুবিধা পেতে শক্তিবর্ধক ব্যায়ামের পাশাপাশি অ্যারোবিক ব্যায়ামও করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সমন্বয় হৃদ্স্বাস্থ্য, পেশিশক্তি এবং সামগ্রিক শারীরিক সক্ষমতা উন্নত করতে সহায়ক।
স্পোর্ট ইংল্যান্ডের স্বাস্থ্য ও সুস্থতা নীতিবিষয়ক কৌশলগত প্রধান টম বার্টন গবেষণার ফলাফলকে সমর্থন করে বলেছেন, শক্তিবর্ধক শারীরিক কার্যক্রম সুস্থ বার্ধক্য নিশ্চিত করার একটি কার্যকর উপায়।
তার মতে, এ ধরনের ব্যায়াম অসুস্থতা প্রতিরোধ বা বিলম্বিত করতে, চলাফেরার সক্ষমতা ও স্বাধীনতা বজায় রাখতে এবং স্বাস্থ্যসেবার ওপর চাপ কমাতে সাহায্য করে।
স্পোর্ট ইংল্যান্ডের গবেষণা অনুযায়ী, সক্রিয় জীবনযাপন প্রতিবছর প্রায় ৩৩ লাখ দীর্ঘমেয়াদি রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে এবং স্বাস্থ্যসেবা ব্যয়ে প্রায় ৮ বিলিয়ন পাউন্ড সাশ্রয় করে।
এদিকে, যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (এনএইচএস) প্রাপ্তবয়স্কদের সপ্তাহে অন্তত দুই দিন শরীরের প্রধান পেশিগুলোকে সক্রিয় করে এমন শক্তিবর্ধক ব্যায়াম করার পরামর্শ দেয়। পাশাপাশি প্রতি সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রার অথবা ৭৫ মিনিট উচ্চমাত্রার শারীরিক ব্যায়াম করার সুপারিশ করা হয়।